
ইরান নিয়ে বড় দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানালেন, ইরান কখনও পারমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। এই ব্যাপারে তেহরান সম্মত হয়েছে। যদিও এই দাবি নতুন কিছু নয়। এর আগেও তিনি এই কথা বলেছেন। আরও একবার তিনি এই দাবির পুনরাবৃত্তি করলেন।
ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি আগে থেকে বলতে চাই না। কিন্তু তারা এই বিষয়ে রাজি হয়েছে যে কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না।'
এছাড়াও সাংবাদিক বৈঠকে আশার কথা শোনান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, ইরান আমেরিকাকে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার দিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই পদক্ষেপটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালীর সঙ্গে জড়িত হতে পারে।
মাথায় রাখতে হবে, ইরান যুদ্ধের পর থেকেই কার্যত বন্ধ হরমুজ। আর এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ যায়। তাই এখানে কোনও জটিলতা তৈরি হলে তার প্রভাব সারা বিশ্বে পড়ে।
আর আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরানের মধ্যে উত্তেজনার জেরে এই পথ অস্থির হয়েছে উঠেছে। তৈরি হয়েছে জ্বালানির ঘাটতি। সেই সঙ্গে বাজার অস্থিরতার মধ্যে চলে গিয়েছে। তাই অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই জরুরি সমুদ্র পথটি খোলা রাখার কাজে লেগে পড়েছে।
ট্রাম্প জানান যে, ইরান আমেরিকাকে একটি বিশেষ উপহার দিয়েছে। কিন্তু সেই উপহার যে কী, তা সম্পর্কে খোলসা করে কিছুই জানাননি।
তিনি বলেন, 'তারা আমাদের একটি উপহার দিয়েছে। সেই উপহার আজ এসেছে। এটি খুব বড় একটি উপহার। অত্যন্ত মূল্যবান এই উপহার। এটা পরমাণু সংক্রান্ত কিছু নয়। এটা তেল-গ্যাস সম্পর্কিত ছিল। ইরান সত্যিই ভাল একটি কাজ করেছে।'
এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করা ইরান যুদ্ধে ইতিমধ্যেই জয়ী হয়েছে আমেরিকা। তিনি ইঙ্গিত দেন যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই যুদ্ধ দ্রুত থেমে যাওয়ায় কিছুটা হতাশ হয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, 'পিট চাইছিল না এটা এত দ্রুত মিটে যাক'। এর একদিন আগে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে ইরানে হামলা চালাতে তাকে উৎসাহিত করেছিলেন পেন্টাগনের এই প্রধানই।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণু ক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, ইরানের আর কোনও নৌবাহিনী বা রাডার নেই। এমনকী নেই কোনও নেতৃত্ব। তাই এই সামরিক অভিযানকে তিনি 'অসাধারণ সফলতা' বলে প্রশংসা করেন।
যোগাযোগ চলছে
ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। তাঁর দাবি, আমেরিকা সঠিক লোকদের সঙ্গে কথা বলছে। ইরানের নেতারা শত্রুতা বন্ধ করতে চুক্তি করতে আগ্রহী। এখন দেখার ঠিক কবে এই যুদ্ধ থেমে যায়।