
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পার করতে চলেছে। ইরান যুদ্ধ ঘিরে বর্তমানে উত্তেজনা রয়েছে তুঙ্গে। আমেরিকা বা ইরান কোনও পক্ষই পিছু হটতে নারাজ। যুদ্ধবিরতির একাধিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও হামলা এখনও চলছে। যার জেরে উভয় পক্ষেই টানা ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এরইমধ্যে ইরানকে আরও স্পষ্ট করে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালী খোলা না হলে ভয়াবহ হামলা করা হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রু-থে আক্রমণাত্মকভাবে লিখেছেন, "সময় ফুরিয়ে আসছে। ইরানকে একটি চুক্তিতে সম্মত হতে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে আগেই সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি আছে। এই সময়সীমা অতিক্রম করা হলে, আমেরিকা ইরানের উপর এক ভয়াবহ আঘাত হানবে।"
আশ্চর্যজনকভাবে, কিছুদিন আগেও ট্রাম্পের এই অবস্থান তুলনামূলকভাবে নরম বলেই মনে হচ্ছিল। দিন কয়েক আগে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পদ্ধতিতে সংঘাত মীমাংসার জন্য সময়সীমা ১০ দিন বাড়িয়ে ৬ই এপ্রিল পর্যন্ত করেছিলেন ট্রাম্প। যা দেখে অনেকেই মনে করেছিলেন, কিছুটা নমনীয় মেজাজ দেখাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এখন তার সুর পাল্টে গেছে। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন, ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে এবং এর পর ব্যাপক হামলা চালানো হবে।
কেন হরমুজ গুরুত্বপূর্ণ?
হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ এই রাস্তা দিয়েই সারা বিশ্বে মোট তেল আমদানি-রফতানির ২০ শতাংশ পরিবহণ করা হয়। ফলে হরমুজ বন্ধ থাকলে তার প্রভাব পড়ে, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও। ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সেই কারণে এই প্রণালী খুলে দেওয়া ট্রাম্পের জন্যও জরুরি।
ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, বিষয়টি আর কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন ইঙ্গিত দিচ্ছে, ৬ তারিখের পরের দিনগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
অন্যদিকে, ইরান এখনও ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কিন্তু ইরানের যুদ্ধং দেহী মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে না যে, তারা আদৌ কোনও সমঝোতায় যেতে চাইছে। বরং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিশ্বকে এক নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।