
একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করে চলেছেন, তখন ৮ টি ইউরোপিয় দেশ তাঁর পরিকল্পনার বিরোধিতা করতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যই ইউরোপিয় দেশগুলি গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাতে শুরু করেছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নজর পড়েছে, এই অবস্থায় ইউরোপিয় দেশগুলি তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে তাদের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে বলে জানা গেছে।
ডেনমার্ক শক্তি বৃদ্ধি করেছে
ফক্স নিউজের রিপোর্ট অনুসারে, আর্কটিক অঞ্চলে ডেনমার্কের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল সোরেন অ্যান্ডারসেন বলেছেন যে প্রায় ১০০ জন ডেনিশ সৈন্য ইতিমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুউকে পৌঁছেছে, এবং প্রায় একই সংখ্যক সৈন্য পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের কাঙ্গারলুসুয়াকে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ট্রাম্প আটটি ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাদের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এই দেশগুলিও এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি কেউ কেউ গত সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠিয়েছে, যাকে প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোন দেশ কত সৈন্য পাঠিয়েছে?
ডেনমার্ক ১০০ জন সেনা পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। জার্মানি, সুইডেন, ফ্রান্স, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ড সকলেই নিশ্চিত করেছে যে তারা গ্রিনল্যান্ডে সামরিক কর্মী পাঠাচ্ছে। জার্মান ও ফরাসি অর্থমন্ত্রীরা সর্বসম্মতভাবে মার্কিন শুল্ক হুমকির কাছে মাথা নত না করার অঙ্গীকার করেছেন। তারা সোমবার বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলি ব্ল্যাকমেইলের শিকার হবে না এবং গ্রিনল্যান্ডের উপর মার্কিন শুল্ক হুমকির বিরুদ্ধে জোরালো, স্পষ্ট এবং ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে ইতিমধ্যে মিত্র ফ্রান্স প্রকাশ্য উপহাস করতেও শুরু করেছে । মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্টের উক্তি নিয়ে ইতিমধ্যে ফ্রান্স ওয়াশিংটন ডিসিকে উপহাস করেছে। রবিবার এক সাক্ষাৎকারে, বেসেন্ট ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড উদ্দেশ্যকে সমর্থন করে বলেন যে ৭৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ হুমকির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। 'আগামীতে, অ্যান্টার্কটিকsর জন্য এই লড়াই বাস্তব... আমরা আমাদের ন্যাটো গ্যারান্টি রক্ষা করব। এবং যদি রাশিয়া থেকে, অন্য কোনও অঞ্চল থেকে গ্রিনল্যান্ডে আক্রমণ করা হয়, তাহলে আমরা সেখানে যাবো।' তিনি আরও বলেন, 'এখন তো আরও ভালো, শক্তির মাধ্যমে শান্তি, একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে তুলুন, এবং কোনও সংঘাত হবে না কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ দেশ। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। ইউরোপিয়রা দুর্বলতা প্রজেক্ট করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রজেক্ট করে।'
এর তীব্র প্রতিক্রিয়া ফ্রান্স থেকে এসেছে, বিষয়টি নিয়ে একাধিক ট্যুইট করা হয়েছে। ফরাসি বিদেশ মন্ত্রকের অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া অ্যাকাউন্ট, ফ্রেঞ্চ রেসপন্স, মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্মে লিখেছে, 'যদি কোনও দিন আগুন লাগত, তাহলে দমকলকর্মীরা হস্তক্ষেপ করতো তাই এখনই বাড়ি পুড়িয়ে ফেলাই ভালো। যদি কোনও দিন হাঙ্গর আক্রমণ করতে পারে, তাহলে হস্তক্ষেপ করাই ভালো- তাই এখনই লাইফগার্ড খাওয়া ভালো। যদি কোনও দিন দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে ক্ষতি হত তাই এখনই গাড়ি ভেঙে ফেলাই ভালো,'
এদিকে, ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেস্কুর আমেরিকাকে সতর্ক করে বলেছেন যে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যেকোনও পদক্ষেপ ইইউ এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে হুমকির মুখে ফেলবে। ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, 'গ্রিনল্যান্ড একটি সার্বভৌম দেশের একটি সার্বভৌম অংশ যা ইইউর অংশ। এটি নিয়ে ঝামেলা করা উচিত নয়।'