
আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে বেআইনি বলে ঘোষণা করতেই প্ল্যান বি ছকে ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি সকল দেশ থেকে আমদানির উপর অস্থায়ী ১০% শুল্ক আরোপের কথাও ঘোষণা করেন। কয়েকঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই ঘোষণাপত্রে সাক্ষরও করে ফেললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে সেই কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘ওভাল অফিস থেকে সকল দেশের উপর একটি বিশ্বব্যাপী ১০% শুল্ক স্বাক্ষর করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়, যা প্রায় অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
আমেরিকার শীর্ষ আদালত যাই বলুক, শুল্ক নীতি থেকে তিনি যে সরছেন না তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ট্রাম্প। এই আবহে ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি থেকে শুল্ক সরবে কি না সে নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। ট্রাম্প জোরে দিয়ে জানিয়েছেন, কোনও পরিবর্তন হবে না। শুল্ক নীতিতে বড় ধরনের আইনি বাধা সত্ত্বেও ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি অক্ষুণ্ণ থাকবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন,‘ডিল-এ কোনও পরিবর্তন নেই। ওরা আগের মতোই শুল্ক দেবে, কিন্তু আমরা কোনও শুল্ক দেব না।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘একজন মহান ব্যক্তি’ বলে সম্বোধন করে ট্রাম্প দাবি করেন যে ভারত আগে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যে অন্যায্য সুবিধা ভোগ করেছে। তিনি বলেন,‘ভারত আমাদের ঠকাচ্ছিল। আমরা ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছি। এখন এটি একটি ন্যায্য চুক্তি। আমরা বেশ নীতিতে কিছু পরিবর্তন করেছি।’
প্রসঙ্গত, ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) প্রয়োগ করে একাধিক দেশের উপরে বিভিন্ন শতাংশের ভিত্তিতে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শুক্রবার এই আইনের অধীনে আরোপিত শুল্ক বেআইনি বলে ঘোষণা করে আমেরিকার শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন ন’জন বিচারপতির বেঞ্চ ৬-৩ ভোটের ভিত্তিতে রায়ে বলেন,‘জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই, তাদের এড়িয়ে একক সিদ্ধান্তে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর এই বিশাল শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।’ এই রায়কে ফুৎকারে উড়িয়ে হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আরও অনেক বেশি চার্জ করতে পারি। আমি ধারা ১২২ এর অধীনে ১০% বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপের আদেশে স্বাক্ষর করব, যা আমাদের ইতিমধ্যেই আরোপিত স্বাভাবিক শুল্কের অতিরিক্ত।’
হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্প এদিন আবারও বলেন,‘আমি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধও থামিয়েছি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, আমি তাদের যুদ্ধ থামিয়ে ৩৫ মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচিয়েছি। আমি মূলত শুল্কের মাধ্যমে এটি করেছি। আমি বলেছিলাম, তোমরা যদি যুদ্ধ করতে চাও, তা ঠিক আছে, কিন্তু তোমরা আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। তোমাদের দুই দেশকে ২০০% শুল্ক দিতে হবে। এই হুমকির পরেই তারা ফোন করে বলেছিল, আমরা শান্তি স্থাপনে রাজি।’