সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মৃত্যু সংবাদ। সাড়ে ৫৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এ ব্যাপারে পোস্ট করেন। পরিস্থিতি এমন হয়, এই খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিতে আসরে নামতে হয় হোয়াইট হাউজকে।
কেন ছড়াল এই গুজব?
জুলাই মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে আঘাত এবং গোড়ালিতে ফোলাভাব দেখা যাওয়ার পর থেকে কয়েক মাস ধরে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। যদিও হোয়াইট হাউস সেই সময়ে গুজব উড়িয়ে দিয়েছিল, তবুও মেকআপে ঢাকা তার আঘাতের ছবি কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে।
এই খবরের সত্যতা আছে?
২৭শে আগস্ট ইউএসএ টুডে- কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যখন বলেন যে 'ভয়াবহ ট্র্যাজেডি' ঘটলে তিনি হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত, তখন গুজব আরও জোরদার হয়ে ওঠে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ট্রাম্প সুস্থ আছেন, কাজের প্রতি এখনও সমান উদ্যমী। তবে ভ্যান্স এও বলেন, পরিস্থিতির প্রয়োজনে তিনিও নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। 'গত ২০০ দিন চাকরি করা কালীন দারুণ ভালো ট্রেনিং পেয়েছি। আর যদি, ঈশ্বর না করুন, কোনও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে আমি যা পেয়েছি তার চেয়ে ভালো ট্রেনিং আর হয় না। তাই আমি প্রস্তুত নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে।'
৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প আমেরিকার সবচেয়ে বয়স্ক রাষ্ট্রপতি। অন্যদিকে ৪১ বছর বয়সী ভ্যান্স হলেন আমেরিকার ইতিহাসের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ভাইস-প্রেসিডেন্ট। এর মধ্যেই ট্রাম্পকে অনেকদিন জনসমক্ষে দেখতে পাওয়া না যাওয়ায়, তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে, এটা লক্ষণীয় যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে চর্চা হলেও হোয়াইট হাউস এখনও মুখ বন্ধ করে রেখেছে। জুলাইয়ের শুরুতে, হোয়াইট হাউস তাঁর গোড়ালিতে ফোলাভাবের ছবি প্রকাশের পর উদ্বেগ স্বীকার করেছিল। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে মেডিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে শিরাজনিত সমস্যা রয়েছে তাঁর। যা ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে সাধারণ রোগ।
ট্রাম্পের চিকিৎসক ডাঃ শন বারবাবেলার একটি নোটও প্রকাশ করেছে প্রশাসন। তিনি লিখেছেন যে 'ঘন ঘন করমর্দনের ফলে এবং অ্যাসপিরিন ব্যবহারের ফলে নরম টিস্যুতে সামান্য জ্বালাপোড়ার সঙ্গে ক্ষত দেখা গিয়েছে, যা নিয়ে খুব বেশি চিন্তার কিছু নেই।' ট্রাম্পের হাত আগেও এমন আঘাত দেখা গিয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে, ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তার সাক্ষাতের সময় একই রকম আঘাত দেখা গিয়েছিল। যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।