
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (World Economic Forum) বৈঠকে নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও বক্তব্যের পাশাপাশি আরেকটি বিষয় ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাম হাতের ওপর স্পষ্ট দেখা যাওয়া একটি বড় নীল-কালো দাগ। বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাশালী ব্যক্তির হাতে এমন চিহ্ন চোখে পড়তেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
‘বোর্ড অফ পিস’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সময় ক্যামেরায় ধরা পড়ে ট্রাম্পের হাতের পেছনে গাঢ় নীল-বেগুনি রঙের দাগ। বিষয়টি এতটাই আলোচনায় আসে যে শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নিজেকেই ব্যাখ্যা দিতে হয় প্রেসিডেন্টকে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'আমি পুরোপুরি ঠিক আছি। টেবিলে হাতটা চেপে লেগেছিল। তাই একটু, এটাকে কী বলে, ক্রিম লাগিয়েছি। আসলে টেবিলে ঠেকে গিয়েছিল।'
এরপর নিজের কথায় আরও ব্যাখ্যা যোগ করে ট্রাম্প জানান, তিনি নিয়মিত অ্যাসপিরিন খান এবং তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই এমন দাগ দেখা যেতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই বলেছিলেন, রক্ত পাতলা রাখার জন্য তিনি অ্যাসপিরিন গ্রহণ করেন। তবে চিকিৎসকদের সুপারিশের তুলনায় তিনি অনেক বেশি মাত্রায় অ্যাসপিরিন খান বলে দাবি উঠেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রতিদিন ৩২৫ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন খান, যা সাধারণভাবে সুপারিশকৃত মাত্রার প্রায় চার গুণ। চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী, সাধারণত ৬০ বা ৭০ বছরের কম বয়সী এবং হৃদ্রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই অ্যাসপিরিন গ্রহণের কথা বিবেচনা করা হয়। এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, 'আমি বলব, যদি তোমার হৃদয় ভালো রাখতে চাও, অ্যাসপিরিন খাও। তবে যদি হাতে নীল দাগ দেখতে না চাও, তাহলে খেও না। আমি বড় মাত্রায় অ্যাসপিরিন খাই। বড় অ্যাসপিরিন খেলে তারা বলে, এমন নীল দাগ পড়ে।'
তিনি আরও স্বীকার করেন যে চিকিৎসকদের পরামর্শ সত্ত্বেও তিনি বেশি মাত্রায় অ্যাসপিরিন খাচ্ছেন। ডাক্তাররা আমাকে বলেছিলেন, 'আপনার এটা খাওয়ার দরকার নেই, স্যার। আপনি একদম সুস্থ।' কিন্তু আমি বলেছিলাম, 'আমি কোনও ঝুঁকি নিতে চাই না।’ এটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ারই একটা অংশ।' হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, এই আঘাত সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাজনিত। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, দাভোসে ‘বোর্ড অফ পিস’ অনুষ্ঠানের সময় স্বাক্ষর টেবিলের কোণায় ট্রাম্পের হাত লেগে যায়, সেখান থেকেই এই দাগের সৃষ্টি।
হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক আরও জানান, প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়ার ফলে প্রেসিডেন্ট সহজেই আঘাতপ্রাপ্ত হন। তিনি অনুষ্ঠানের আগে ও পরে তোলা ছবির উল্লেখ করে বলেন, সেগুলিতে কোনও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল না। উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। কখনও মেকআপ, কখনও ব্যান্ডেজ দিয়ে সেগুলি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন তিনি। অনেক সময় ক্যামেরার সামনে হাত আড়াল করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে।