
বিশ্ব মঞ্চে আরও একবার পাকিস্তানকে মানবাধিকারের শিক্ষা দিল ভারত। আসলে দীর্ঘদিন ধরেই পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) অস্থিরতা চলছে। সেখানে কোনও প্রকার মানবাধিকার মানা হয় না। এমনকী পাক সেনার অত্যাচারে কয়েকদিন আগেই সেখানে প্রাণ গিয়েছে ১২ জনের। পাশাপাশি আহত শতাধিক। আর এই বিষয়টাকে হাতিয়ার করেই পাকিস্তানকে শিক্ষা দিল ভারত।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান আবার জাতিসংঘে কাশ্মীর ইস্যু তুলে ধরেছে। তবে এবার পড়শি দেশকে ছেড়ে দেয়নি ভারত। বরং দেওয়া হয়েছে যোগ্য জবাব। এই বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পারভাথানেনি হরিশ জানান, জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করছে। তবে পাকিস্তানের কাছে এই সব ধারণা নেই।
কী বলেন তিনি?
'জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং সাংবিধানিক কাঠামো অনুসারে তাদের মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করে... আমরা অবশ্যই জানি যে এগুলি পাকিস্তানের জন্য এলিয়েন ধারণা,' এমনটাই বলেন পারভাথানেনি হরিশ।
ভারতের দূত কাশ্মীর ইস্যুতে দেশের দীর্ঘস্থায়ী মন্তব্যও আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন এই রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, 'জম্মু ও কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে'।
পাকিস্তানিরা জ্বলছে
ওদিকে খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। গোটা দেশেই চলছে সেনার শাসন। কোনও প্রধানমন্ত্রীই ৫ বছরের সময়কাল পেরতে পারছেন না। যার ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
তবে সারা দেশের মধ্যে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের অবস্থা সবথেকে খারাপ। সেখানে মানুষের বিদ্রোহ জোর করে থামিয়ে দেওয়া হয়। তাদের উপর করা হয় অত্যাচার। সেনার সঙ্গে লড়াইতে প্রাণ যায় নীরিহ অধিবাসীদের। আর সেই পাকিস্তানই নাকি ভারতকে কথায় কথায় জ্ঞান দেয়।
আর এ বার সেই সুযোগই কাজে লাগল ভারত। পাক-অধিকৃত কাশ্মীর যাতে জোর করে দখলে রাখা জায়গার মানুষের উপর অত্যাচার না করে, সেখানে যাতে হিউম্যান রাইটস থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে বলা হল।
ভারতের রাষ্ট্রদূত বলেন, 'আমরা পাকিস্তানকে অবৈধভাবে দখল করা এলাকায় গুরুতর এবং চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানাই। পাকিস্তানের জনগণ সামরিক অত্যাচার, দমন, বর্বরতা এবং সম্পদের অবৈধ শোষণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ করছে।'
এখন দেখার পাকিস্তান কতটা শোনে ভারতের কথা। তাঁদের দেশের জনগণ আদৌ মানবাধিকার পায় কি না। যদিও মনে হয় না সেটা আদৌ সম্ভব হবে।