
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বহু দেশে। তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, ওই ইরান থেকেই সব থেকে বেশি তেল আসে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কার মতো দেশে। সঙ্কটের মোকাবিলায় জ্বালানির ব্যবহার কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সেই সব সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার।
পাকিস্তান : জ্বালানি সঙ্কটে জেরবার পাকিস্তান। জ্বালানির খরচ কমাতে সেই দেশের স্কুল ও কলেজ দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারি দফতরে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু হয়েছে। সরকারি কর্মীদের ৫০ শতাংশকে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দফতরে জ্বালানির বরাদ্দ অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। সরকারর আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে জ্বালানির ব্যবহার আরও কমাতে হবে।
বাংলাদেশ : তারেক রহমানের দেশেও কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে। ৮ মার্চ থেকে জ্বালানির রেশনিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
চিন: জ্বালানির সঙ্কট চিনেও। তাদের হাতে প্রায় তিন মাসের জ্বালানি মজুত রয়েছে। তবুও সরকার জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। কারণ সাধারণ মানুষকে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ শতাংশ বেশি টাকা দিয়ে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
থাইল্যান্ডে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। ২৬-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। সরকারি দফতরগুলোকেও বাড়ি থেকে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় সাপ্তাহিক একদিন অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবারকে সরকারি ছুটি করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি রেশনিং চালু হয়েছে।
মায়ানমারে ভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে বেসরকারি গাড়ির জন্য ‘অড-ইভেন’ নিয়ম চালু হয়েছে। অর্থাৎ একদিন এক ধরনের নম্বরের গাড়ি চলবে, পরদিন অন্য ধরনের।
ফিলিপিন্স ইতিমধ্যেই জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানিয়েছেন, জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধসহ জরুরি পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া সাময়িকভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমা শিথিল করেছে। কারণ এলএনজি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া নিজেদের কয়লার ব্যবহার বাড়িয়ে রপ্তানি কমাচ্ছে।
ভুটানে জেরিক্যানে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে ভিয়েতনামে মানুষকে বেশি করে গণপরিবহন ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে। সাইকেল চালানো ও কারপুলিং উৎসাহিত করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশগুলোকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।