
ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুই দলই মুক্তি বাণিজ্য প্রস্তাবে সহমত হয়েছে। ফাইনাল হয়েছে মাদার অব ডিল। আর এই ঘোষণার পরই টেনশনে ঘাম হচ্ছে পাকিস্তানের। কারণ, নয়াদিল্লির সঙ্গে ইউরোপের চুক্তি হওয়ার কারণে যে বিপদে পড়ে যাবে শেহবাজ শরিফের সরকার। ভেঙে পড়তে পারে অর্থনীতি। তাদের পথে বসার উপক্রম হতে পারে।
মাথায় রাখতে হবে যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিরাট অর্থের রফতানি করে পাকিস্তান। শুধুমাত্র বস্ত্র শিল্পেই ৯ বিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮.২৫ কোটি টাকার রফতানি করে ইসলামাবাদ। আর ভারতের সঙ্গে চুক্তির ফলে সেই রফতানি অনেকটাই কমার আশঙ্কা করছে শেহবাজের সরকার। যার ফলে চাপে পড়ে গিয়েছে পাকিস্তান। তাদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ইউরোপের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা চাইছে যাতে কোনওভাবেই রফতানি যেন বন্ধ না হয়। এখানেই শেষ নয়, পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার জন্য পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ইশক দার মন্ত্রীসভার বৈঠকও ডেকেছিলেন বলে খবর। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং EU-এর রাষ্ট্রদূতের মধ্যেও হয়েছে বৈঠক।
এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, 'আমরা এই বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। EU সদস্য দেশগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে এবং ব্রাসেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দফতরেও চলছে কথা।'
কত বড় সমস্যায় পাকিস্তান?
দীর্ঘদিন ধরেই রফতানি কমেছে পাকিস্তানের। বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, ১৯৯০-তে জিডিপি-এর ১৬ শতাংশ ছিল রফতানি। তবে বর্তমানে সেটা এসেছে ঠেকেছে মাত্র ১০ শতাংশে। অর্থাৎ কমেছে অনেকটাই।
শুধু তাই নয়, ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি হওয়ার পর ইউরোপের বাজার ধরার ক্ষেত্রেও মার খাবে পাকিস্তান। আসলে পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা এতদিন ইউরোপের বাজারে জেনারালাইজড প্রেফারেন্স প্লাস স্ট্যাটাসের জন্য ট্যাক্সে ছাড় পেত। তারা টেক্সটাইল থেকে শুরু করে দানাশস্য, ফল, সবজি এবং মাছ রফতানি করত এই সব দেশে। তবে সেখানে এবার ধাক্কা দেবে ভারত। সেই প্রতিযোগিতার কথা ভেবেই এখন কেঁদে ভাসাচ্ছে ইসলামাবাদ।
এখানে মাথায় রাখতে হবে, পাকিস্তানের সবথেকে বড় শিল্প হল টেক্সটাইল। এই সেক্টরে ১৫ থেকে ২৫ মিলিয়ন মানুষ কাজ করেন। আর সেখানেই বিপত্তি। ভারতের সঙ্গে চুক্তির ফলে পাকিস্তানের রফতানি কমতে পারে। যার ফলে কর্মসংস্থানও হারাবে অনেক মানুষ। আর তাতেই চিন্তা বাড়ছে শেহবাজ শরিফের।