
আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। আর তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে যে ঠিক কীভাবে এত নিখুঁতভাবে খামেনেই এবং অন্যান্য নেতাদের উপর হামলা চালান হল? তার উত্তর ইতিমধ্যেই মিলেছে। ফিনান্সিয়াল টাইমসের একটি রিপোর্টে দাবি করেছে, গত কয়েক বছর থেকে তেহরানের ট্র্যাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে রেখেছিল ইজরায়েল।
আর শুধু ক্যামেরাই নয়, এর পাশাপাশি নেটওয়ার্ক অ্যাকসেসও ছিল তাদের কাছেই। এর লক্ষ্যই ছিল খামেনেই এবং তার নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধি লক্ষ করা।
এই রিপোর্টে দাবি করা হয় যে তেহরানের ট্র্যাফিকের ক্যামেরা ছিল ইজরায়েলের চোখের সামনে। সেগুলি বিশ্লেষণ করা হতো। তৈরি করা হতো একটা প্যাটার্ন। বোঝার চেষ্টা করা হতো কখন কোন নেতা কার সঙ্গে কোথায় দেখা করে, কোন রুট দিয়ে তারা চলাফেরা করে ইত্যাদি। এই সব তথ্য এবং ফুটেজ ছিল ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে।
কীভাবে চলে অপারেশন?
এই রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ বা ২ মাসে এই অপারেশন হয়নি। এটা অনেকদিনের পরিকল্পনা। ইজরায়েলের ইউনিট ৮২০০ এবং মোসাদ একসঙ্গে মিলে ইরানের টেক সিস্টেমের উপর হামলা চালায়। সেখান থেকে জোগার করা হয় তথ্য। তার উপর ভিত্তি করেই হামলা চালানো হয়।
এক্ষেত্রে ক্যামেরার লাইভ ছবি দেখতে থাকেন গোয়েন্দারা। মোবাইল নেটওয়ার্কের ডেটাও দেখা হয়। যার ফলে নিরাপত্তার সব তথ্যই সামনে চলে আসে। গোয়েন্দারা জেনে ফেলেন কখন কোথায় বডিগার্ড থাকে, কোন রুট দিয়ে চলা ফেরা করা হয়। ধীরে ধীরে একটা প্যাটার্ন বুঝে ফেলেন গোয়েন্দারা। তাদের সামনে প্রতিদিনের একটা ডিজিটাল ম্যাপ সামনে চলে আসে।
কীভাবে ক্যামেরাই হয়ে গেল অস্ত্র?
সিসিটিভি ক্যামেরা এখন সব শহরেই লাগান থাকে। এর মাধ্যমেই রাষ্ট্র নজরদারি চালায়। তবে সেই সিস্টেম হ্যাক হয়ে গেলেই বিপত্তি। তখন সিসিটিভি তথ্য তাদের কাছে পৌঁছে যেতে থাকে।
এই রিপোর্টে জানা গিয়েছে যে সিসিটিভি ফুটেজ সরাসরি এক্সটার্নাল সার্ভারে চলে যেত। এছাড়া মোবাইল নেটওয়ার্কও হ্যাক করা হয়। যার ফলে গতিবিধি সহজেই বোঝা সম্ভব হয়।
এর উপর ভিত্তি করেই একটা প্ল্যান তৈরি করে ইজরায়েল। কোথায় কখন খামেনেই থাকতে পারেন, সেটা তাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। এর উপর নির্ভর করেই হামলা চালান হয়।