
আমেরিকার ভেনেজুয়েলা 'প্রীতি' নতুন কিছু নয়। আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর রয়েছে ভেনেজুয়েলার তেলের দিকে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর সেই কারণেই মার্কিন সেনা সেই দেশের রাজধানী কারাকাসে হামলা চালিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এখানে শুধু লোক দেখানো প্রসঙ্গ।
মাথায় রাখতে হবে ভেনেজুয়েলা খুব গরিব দেশ। জানলে অবাক হবেন, ২০২৫ সালে এই দেশের মুদ্রাস্ফিতি ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। আর ২০১৮ সালে ৬৩০০০ শতাংশে ছিল মুদ্রাস্ফিতির হার। আর এই তথ্যই বলে দেয় যে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি কতটা খারাপ।
আর এই সংকট নতুন কিছু নয়। বরং গত দুই দশক ধরেই এমনটা চলছে। অর্থনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি রাজনৈতিক ডামাডোলও রয়েছে। আসলে অর্থনীতি এবং রাজনীতি দুইই পাশাপাশি চলে। দেশের আর্থিক হাল খারাপ হলেই সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে পারে। আর সেই জায়গাটা দেখিয়েই আমেরিকা ভেনেজুয়েলা দখল করতে এগিয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ
ভেনেজুয়েলা হল পৃথিবীর সবথেকে বড় অপরিশোধিত তেলের খনি। সেখানে ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড অয়েল রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর সেটাই ভেনেজুয়েলার (পড়তে পারেন আমেরিকার) ভাগ্য বদলে দিতে পারে। এখানেই চোখ রয়েছে আমেরিকার বা বলা ভাল ট্রাম্পের।
ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন যে, ভেনেজুয়েলার তেল রয়েছে ভুল হাতে। তাঁর কাছে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ছিলেন এই তেলের খনি দখলের একটা বিরাট বাধা। আর সেই বাধাই সরিয়ে দিতে চাইছিলেন ট্রাম্প। তাই তিনি নানা ভাবে চাপ বাড়াতে চাইছিলেন মাদুরোর উপর। আর শেষমেশ মাদুরোকে বন্দি করে তিনি আমেরিকা নিয়ে আসলেন।
আসলে ট্রাম্প শুধুই কম টাকায় তেল কিনতে চাইছিলেন না, বরং রাশিয়া এবং OPEC-এর থেকে শক্তির দিক থেকে এগিয়ে থাকার চেষ্টাও করেছেন তিনি। তাহলেই পৃথিবীর বুকে আমেরিকার রাজ করার স্বপ্ন পূরণ সম্ভব ছিল বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। আর সেই কারণেই ভেনেজুয়েলায় হামলা।
কত টাকার খেলা?
মনে করা হয়, ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড তেল রয়েছে ভেনেজুয়েলাতে। যদি ধরা যায়, প্রতি ব্যারেলের দাম ৪০ ডলার, তাহলে সেখানে ১২.১২ ট্রিলিয়ন ডলারের মতো খাজানা লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এটা বহু দেশের GDP-এর থেকে বেশি টাকা।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পাকিস্তানের জিডিপি রয়েছে ৪১০.৫ বিলিয়ন ডলার। আর সেখানে ব্যারেল প্রতি ৪০ ডলারে বিক্রি করা সম্ভব হলে ভেনেজুয়েলার কাছে রয়েছে ২ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ভেনেজুয়েলার তেলের রিজার্ভই পাকিস্তানের জিডিপি-এর থেকে বেশি।