
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালীতে থাই পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাল ভারত। জাহাজটি গুজরাতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। হামলার জেরে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং অধিকাংশ নাবিককে উদ্ধার করতে উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়।
বুধবার এক বিবৃতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, “Mayuree Naree” নামে থাই পতাকাবাহী জাহাজে হামলার খবর তারা জেনেছে। ঘটনাটি ঘটে ১১ মার্চ হরমুজ প্রণালীতে। জাহাজটি গুজরাতের দিকে রওনা দিয়েছিল।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সরকারের বক্তব্য, এই ধরনের হামলায় আগেও বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, যার মধ্যে ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ ও সাধারণ নাবিকদের কোনওভাবেই হামলার লক্ষ্য করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচল এবং বাণিজ্যের স্বাধীনতা বিঘ্নিত করা থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ভারত।
জাহাজে আগুন, উদ্ধার অভিযান
মেরিটাইম সিকিউরিটি সূত্র ও জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, থাই পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ারটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় জাহাজটি ওমানের উত্তর উপকূল থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। আঘাত লাগার পর জাহাজে আগুন ধরে যায়। পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, জাহাজের মোট ২৩ জন নাবিকের মধ্যে ২০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চালায় ওমানের নৌবাহিনী।
তবে এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তিনজন নাবিক জাহাজেই রয়েছেন। তাঁদের অবস্থা বা জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
জাহাজের পরিচয় নিশ্চিত
রয়্যাল থাই নেভি এবং United Kingdom Maritime Trade Operations (UKMTO) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে একটি কার্গো জাহাজ অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরে জাহাজের ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO) নম্বর, হুল ও সুপারস্ট্রাকচারের ছবি মিলিয়ে সেটিকে Mayuree Naree হিসেবে শনাক্ত করা হয়। মেরিটাইম রেকর্ড অনুযায়ী, জাহাজটির মালিক শিপিং সংস্থা Precious Shipping।
তদন্ত শুরু
হামলায় ঠিক কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। যদিও সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আলোচনায় ঘটনাটি তেহরানকে ঘিরে চলা আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও দেশ বা গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা ও নৌবাহিনীগুলি ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে।