
India US tariff news: ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ ট্যারিফ চাপাতে পারে আমেরিকা। সম্ভাব্য বিল নিয়ে শোরগোল আন্তর্জাতিক মহলে। সেই আবহে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত। রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটনের অভিযোগ কার্যত খারিজ করে দিল নয়াদিল্লি। সাফ জানিয়ে দেওয়া হল, ভারত কোনও চাপের মুখে মাথা নত করে সিদ্ধান্ত নেয় না। বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি ও দেশের প্রয়োজন মাথায় রেখেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
শুক্রবার দিল্লিতে বিদেশমন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠক ছিল। সেখানেই এই বিষয়ে মুখ খোলেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। আমেরিকায় যে এহেন প্রস্তাবিত বিল নিয়ে চর্চা চলছে, সে বিষয়ে ভারত ওয়াকিবহাল বলে জানান তিনি। পাশাপাশি স্পষ্ট করে দেন, জ্বালানি সংগ্রহের নিরিখে ভারতের অবস্থান আগেও যা ছিল, এখনও তাই আছে। তাঁর কথায়, আন্তর্জাতিক বাজারে কী পরিস্থিতি, তার উপর নির্ভর করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, 'আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই; ১৪০ কোটি ভারতীয় যেন কম দামে জ্বালানি পান।'
প্রসঙ্গত, এর আগেই ভারতের উপর ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়েছে আমেরিকা। তার মধ্যে ২৫ শতাংশ লেভি। রুশ তেল কেনার 'অপরাধে' চাপানো। বাকি ২৫ শতাংশ ছিল 'রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ'। তাতেও ভারতের অর্থনীতিতে তেমন কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি ওয়াশিংটন। সেই কারণেই কি এবার আরও কঠিন পথে হাঁটার প্রস্তুতি? মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম একটি বিল পেশ করেছেন। সেখানে রুশ তেল, গ্যাস বা ইউরেনিয়াম কেনা দেশগুলির উপর অন্তত ৫০০ শতাংশ ট্যারিফ বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এই বিলের পক্ষে সওয়াল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। খবর, গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি লিন্ডসে গ্রাহামের সঙ্গে বৈঠকে বলেন US প্রেসিডেন্ট। এরপর তিনি এই বিলে সমর্থন জানান। যুক্তি হিসাবে বলা হয়, রাশিয়ার যুদ্ধের তহবিলে লাগাম টানা প্রয়োজন। সেই কারণেই সেই দেশ থেকে যারা তেল কিনছে, তাদের নিরুৎসাহ করা জরুরি। আমেরিকার অভিযোগ, ভারত সস্তায় রুশ তেল কিনতে গিয়ে কার্যত রাশিয়ার যুদ্ধের ফান্ডিং করছে।
তবে ঠিক এখানেই আমেরিকার দ্বিচারিতা তুলে ধরছে নয়াদিল্লি। কারণ, আমেরিকা নিজেই রাশিয়ার থেকে ইউরেনিয়াম কেনে। সেই প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিয়েও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।
শুধু ট্যারিফ ইস্যু নয়, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও মুখ খোলেন রণধীর জায়সওয়াল। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের দাবি ছিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্রাম্পকে ফোন না করায় বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে গিয়েছে। সেই বক্তব্য সরাসরি খারিজ করেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র। জানান, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আর তার মধ্যে বেশি কিছুবারই চুক্তির চূড়ান্ত হওয়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল দুই পক্ষ।
রণধীর জায়সওয়ালের দাবি, রিপোর্টে যা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনও মিল নেই। ভারত ও আমেরিকা পরস্পরের পরিপূরক অর্থনীতি। আর সেই কারণেই, পরস্পরের জন্য লাভজনক হবে, এমন কোনও বাণিজ্য চুক্তিতেই আগ্রহী নয়াদিল্লি। সেই চুক্তি শীঘ্রই স্বাক্ষর হবে বলেই আশাবাদী ভারত। তিনি জানান, ২০২৫ সালেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে আটবার ফোনে কথা হয়েছে। সেই আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এদিন আমেরিকাকে কার্যত স্পষ্ট বার্তা দিল ভারত। চাপের কূটনীতি নয়। দেশের স্বার্থই শেষ কথা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থানে অনড় নয়াদিল্লি।