
ইরানে চলমান অশান্তির জেরে উদ্বেগ বাড়ছে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে। দেশের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে— আর সেই কারণেই ভারত সরকার জরুরি ভিত্তিতে তৈরি করছে উদ্ধার পরিকল্পনা। সূত্রের খবর, অপেক্ষা না বাড়িয়ে আগামীকালই প্রথম দফায় ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ভারতীয় ছাত্রছাত্রী ও নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ইরানের বহু জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। ফোন লাইনও মাঝে মাঝে কাজ করছে, মাঝে মাঝে সম্পূর্ণ বন্ধ। তাই দূতাবাসের আধিকারিকরা সরাসরি এলাকায় গিয়ে ছাত্রদের খুঁজে বের করছেন, নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করছেন।
এক সরকারি সূত্র বলছে, “ইন্টারনেট নেই, ফোনেও সমস্যা। তাই আমাদের টিম মাটিতে নেমে ছাত্রদের খুঁজে বের করছে। পরিস্থিতি যেমন বদলাচ্ছে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”
ইরানে গত মাসের শেষ দিক থেকে প্রবল অর্থনৈতিক সংকট ও রিয়ালের দাম পতনের জেরে বিক্ষোভ শুরু হয়। এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে সকল ৩১টি প্রদেশে। বহু জায়গায় বিক্ষোভ রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এখন পর্যন্ত ৩,৪০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নে। ইরানে বর্তমানে থাকা ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ১০,০০০-এর বেশি। যার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
ভারত সরকারের পরামর্শ
বুধবার ভারত সরকার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, “অবিলম্বে ইরান ছাড়ুন, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত বন্ধ রাখুন।” তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসের সরকারি পরামর্শে বলা হয়, ছাত্র, পর্যটক, ব্যবসায়ী বা তীর্থযাত্রী, সকলেই যেন সম্ভব হলে বাণিজ্যিক বিমানে ইরান ছাড়েন। পাসপোর্ট-পরিচয়পত্র সব সময় হাতের কাছে রাখতে হবে। কোনও বিক্ষোভ, জনসমাবেশ, উত্তপ্ত এলাকায় না যেতে হবে। দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে থাকতে হবে। তারা আরও জানিয়েছে, PIO কার্ডধারীদের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রযোজ্য।
পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি নিজে ফোন করে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেন। দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।