
কিছুদিন আগেই খবর এসেছিল যে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্যায়ের কথা শেষ হয়ে গিয়েছে। খুব তাড়াতাড়িই চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে যাবে। যদিও এসবের মধ্যেই আমেরিকার সেনেটার্স সেই দেশের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটা চিঠি দিয়েছেন। সেখানে ভারত যাতে আমেরিকার মটর ডালের উপর থেকে ট্যাক্স তুলে নেয়, সেই দাবি করা হয়েছে।
এই চিঠিতে সেনেটারদের পক্ষ থেকে ভারতে রফতানি করা আমেরিকার ডালের জন্য ভাল চুক্তি চেয়েছেন। ডালের বিষয়টা যেন ভারত এবং আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে থাকে, সেটা মাথায় রাখতেও বলা হয়েছে।
এই চিঠিতে দাবি করা হয়, ডালের উপর ৩০ শতাংশ ট্যাক্স যেটা ভারত নেয়, সেটা যেন তুলে নেওয়া হয়। তাতেই আমেরিকার কৃষকদের জন্য ভারতের মার্কেট খুলে যাবে।
ডাল ব্যবহারে এগিয়ে রয়েছে আমেরিকা
মাথায় রাখতে হবে, আমেরিকার উত্তর ডাকোতা এবং মনটানা ডাল তৈরিতে এগিয়ে রয়েছে। আর অপরদিকে পৃথিবীর সবথেকে বেশি ডাল ব্যবহার করার দেশ হল ভারত। এখানে সারা পৃথিবীর ২৭ শতাংশ ডাল ব্যবহার হয়। আর সেই কারণেই ভারতের বাজারের দিকে নজর রয়েছে আমেরিকার। তাঁরা চাইছে আমেরিকার কৃষকরা যাতে ভারতের বাজার ধরে নিতে পারে।
তাই সেনেটার্সের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে বলা হয়, 'চুক্তি যত এগবে, ততই আমরা চেষ্টা করব ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে যেন ডাল নিয়ে চুক্তি হয়ে যায়। আমরা জানি যে মসুর, চানা ও শুকনো বিনস প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয় ভারতে। কিন্তু তারা আমেরিকার ডালের উপর অনেক শুল্ক বসিয়ে রেখেছে।'
কোথায় লস হচ্ছে আমেরিকার?
ট্রাম্পকে লেখা এই চিঠিতে সেনেটর জানিয়েছেন যে ভারত ৩০ অক্টোবর ২০২৫ থেকে হলুদ মটরে ৩০ শতাংশ শুল্ক লাগানো হয়েছে। এটা ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে লাগানো হয়েছে। যার ফলে আমেরিকার ডাল চাষ করা কৃষকদের খুব সমস্যা হচ্ছে।
একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে ভারত এবং আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি এখনও হয়নি। সেই কারণে বর্তমানে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসেছে ভারতীয় পণ্যে। তাই ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। তবে ক্ষতি যে আমেরিকারও হচ্ছে, সেটা এখন স্পষ্ট। যদিও এখন দেখার মোদী সরকার আদৌ এই শুল্ক তুলে নেয় কি না। আর শুল্ক তুলে নিলে যে ভারতীয়দের ক্ষতি হবে, সেটাও মাথায় রাখতে হবে তাঁদের।