
আকাশপথের লড়াই এবার আছড়ে পড়তে চলেছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। আমেরিকার সাথে সংঘাতের আবহে এবার সরাসরি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ওপর পাল্টাহামলার হুঁশিয়ারি দিল ইরান। তেহরানের দাবি, আমেরিকার অন্তত ১৮টি প্রথম সারির টেক কোম্পানি তাদের রাডারে রয়েছে। এই তালিকায় অ্যাপল, মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বখ্যাত নামগুলিও বাদ পড়েনি। মঙ্গলবার ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা আসার পরই বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬-এর এই উত্তাল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি এবার শুরু হতে চলেছে এক বিধ্বংসী ‘সাইবার ওয়ার’।
নিশানায় মার্কিন টেক জায়ান্ট: ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, তেহরান এমন ১৮টি মার্কিন সংস্থাকে চিহ্নিত করেছে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা বিভাগকে মদত দেয়। এই তালিকায় আইফোন নির্মাতা অ্যাপল এবং সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট ছাড়াও একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ও ক্লাউড কম্পিউটিং সংস্থার নাম রয়েছে। ইরানের অভিযোগ, এই সংস্থাগুলি তাদের দেশের বিরুদ্ধে ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তি এবং পরিকাঠামো ধ্বংসের কাজে লিপ্ত।
তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর যে কোনও ধরণের আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দিতে তারা তৈরি। আর এই পাল্টা জবাব কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মার্কিন প্রযুক্তি নির্ভর পরিকাঠামোয় সাইবার হানা চালিয়ে ডিজিটাল ব্ল্যাক-আউট তৈরির পরিকল্পনাও করছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের হ্যাকাররা গত কয়েক বছরে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়েছে, যা আমেরিকার জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
২০২৬-এর এই সময়ে দাঁড়িয়ে যখন সারা বিশ্বের অর্থব্যবস্থা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল, তখন ইরানের এই হুমকি টেক দুনিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অ্যাপল বা মাইক্রোসফটের মতো সংস্থাগুলির সার্ভার যদি কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তার প্রভাব কেবল আমেরিকায় নয়, ভারত-সহ সারা বিশ্বে পড়তে বাধ্য। ফলে শিলিগুড়ি থেকে ওয়াশিংটন, তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে হোয়াইট হাউস।