
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি থামার নামই নিচ্ছে না। বরং তার আঁচ আরও ছড়িয়ে পড়েছে।
এই যেমন ইরান ইতিমধ্যেই দু'টি ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে ডিয়েগো গার্সিয়াতে আক্রমণ করেছে। এই ডিয়েগো গার্সিয়া হল ভারত মহাসাগরে আমেরিকা এবং ইউকে-এর সামরিক ঘাঁটি।
আর এমন আক্রমণের পরই দুবাইতেও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অ্যাক্টিভ হয়ে যায়। সেখানেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তারপর অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই যুদ্ধের উত্তাপ পৌঁছে যেতে পারে ইউরোপেও।
প্রসঙ্গত, ভারত মহাসাগরের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সূত্রপাত ৪ মার্চ। সেই দিন ইরানের যুদ্ধ জাহাজ আইরিশ দেনাকে আক্রমণ করে আমেরিকার ডুবোজাহাজ। যার ফলে ইরানের জাহাজটি ধ্বংস হয়ে যায়। মৃত্যু হয় ৮৫ জনের। এরপর থেকেই ভারত মহাসাগরে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল ইরান। আর এবার তাঁরা সেই কাজটাই করে ফেলল।
এই প্রসঙ্গে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, দিয়েগো গার্সিয়াতে দু'টি ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে। এই দিয়েগো গার্সিয়াতেই রয়েছে আমেরিকা এবং ব্রিটেনের মিলিটারি বেস।
এই সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরান থেকে প্রায় ৪০০০ কিমি দূরে অবস্থিত এই সামরিক ঘাঁটি। আর সেখানে বড় হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও আমেরিকার তরফে দাবি করা হয়েছে যে তেহরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ পথেই নামিয়ে দিয়েছে আমেরিকা।
মার্কিন আধিকারিক জানান, একটি মিসাইলকে মাঝ পথেই ব্যর্থ হয়। অপরটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ইউএস যুদ্ধজাহাজ এটি নষ্ট করে দেয়।
ভয় বাড়ছে ইউরোপের
এই যুদ্ধ আবহে ইরানের এহেন হামলা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, দিয়েগো গার্সিয়া চ্যাগোস দ্বীপে অবস্থিত। এটি আমেরিকা এবং ইউকে মিলিতভাবে ব্যবহার করে। এখান থেকেই আফগানিস্তান এবং ইরাকে বোম্বিং করেছিল আমেরিকা। আর সেখানেই হামলা চালাল ইরান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতদিন খুব বেশি দূরে হামলা চালানোর চেষ্টা করেনি ইরান। এবার তেহরান ৪০০০ কিমি দূরেও হামলা চালাতে শুরু করল। এই বিষয়টা নিয়েই ভয় বাড়ছে ইউরোপের।
এর সহজ অর্থ করলে দাঁড়ায়, এত দূর পর্যন্ত যদি ইরান হামলা চালাতে পারে, তাহলে ইউরোপেও থাকতে পারে তাদের টার্গেটে। আর এই বিষয়টাই ভয়ের কারণ।
যদিও পেন্টাগন এই আক্রমণ নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি। কিন্তু ইরানের এহেন আক্রমণ যে ইউরোপের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সেটা মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞই।