
মিসাইলে মাধ্যমে ভারতকে ধন্যবাদ জানাল ইরান। আজ অর্থাত্ ২৭ মার্চ একসঙ্গে একাধিক মিসাইল ছুড়ল (যাকে বলা হচ্ছে, ৮৩তম ওয়েভ অফ মিসাইল) ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলার জবাবে। সেই মিসাইলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মেসেজও পৌঁছে দিচ্ছে ইরান। সেই মেসেজ হল, 'Thank you the people of India' অর্থাত্ ভারতবাসীকে ধন্যবাদ।
সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে ইজরায়েল এবং আরব দেশগুলিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে এক বিশাল মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরান এই আক্রমণকে তাদের ‘৮৩তম ওয়েভ অফ মিসাইলস’ পাল্টা জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছে। কিন্তু এই যুদ্ধের আবহেও একটি বিশেষ ছবি ভারতের নজর কেড়েছে, তা হল ইরানের মিসাইলের গায়ে লেখা কিছু বিশেষ বার্তা।
মিসাইলের মাধ্যমে ভারতকে ধন্যবাদ
মুম্বইয়ে অবস্থিত ইরানের কনসুলেট জেনারেল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্সের পক্ষ থেকে ছোড়া মিসাইলগুলির গায়ে ভারত, পাকিস্তান, স্পেন ও জার্মানির সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। ইরানের দাবি, এই দেশগুলির মানুষ তাঁদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) জানিয়েছে, এই দফায় তারা মাঝারি ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করেছে। তাঁদের নিশানায় ছিল বাহরিনে অবস্থিত আমেরিকার প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের একটি কেন্দ্র। যুদ্ধের এই বিস্তৃতি শুধু ইজরায়েলেই সীমাবদ্ধ নেই, তা কুয়েতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতেও ছড়িয়ে পড়ছে। কুয়েতের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র শুয়াইখ বন্দরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
কাশ্মীরের মানুষ সর্বস্ব দান করছে ইরানের জন্য
এই যুদ্ধের এক আবেগপূর্ণ ছবি ধরা পড়েছে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে। বিশেষ করে শিয়া প্রধান এলাকাগুলিতে ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। রামবান জেলার চন্দরকোট এলাকায় শত শত মানুষ ইমামবাড়ায় জমা হয়ে নগদ টাকা, গৃহস্থালির জিনিসপত্র এবং সোনা-রুপোর গয়না দান করছেন। এমনকি ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাদের মাটির ভাঁড় ভেঙে জমানো টাকা তুলে দিচ্ছে। অনেকে নিজের গবাদি পশু পর্যন্ত দান করেছেন। বদগাম এলাকা থেকেও একই ধরনের ছবি সামনে এসেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ এই সংকটের সময়ে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
কূটনৈতিক পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের দাবি
যুদ্ধের এই ভয়াবহতার মাঝেও ইরান একটি নরম সুর বজায় রেখেছে কিছু বিশেষ দেশের ক্ষেত্রে। তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতসহ তাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলির বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা দেওয়া হবে না। এই হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান রাস্তা। এদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের অনুরোধে তিনি তাদের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, আলোচনার পথ প্রশস্ত হচ্ছে। তবে ইরান সরাসরি এই দাবি অস্বীকার করেছে।