
US Strikes Mashhad Airport: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাবানল এবার সরাসরি আঘাত হানল ভারতের ত্রাণবাহী বিমানে। সোমবার ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অসামরিক বিমানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। ইরানীয় সংবাদমাধ্যম এবং সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর দাবি, মহান এয়ারের ওই বিমানটি ওষুধ এবং জীবনদায়ী চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই এই হামলা চালানো হয়। যদিও আমেরিকার তরফে এই হামলার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি। ২০০৬-এর এই তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক আবহে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে।
নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে চলমান মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবেই এই বিমানটির ভারতে আসার কথা ছিল। ভারতের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ইরানে ত্রান পাঠানো হয়েছিল, যার পাল্টা সৌজন্য হিসেবেই এই ওষুধবাহী বিমানটি আসার কথা ছিল। ইরানের অসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা এই ঘটনাকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। ভারতে নিযুক্ত ইরানীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানে বিভিন্ন দেশ থেকে আনা চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত ছিল। একটি ত্রাণবাহী অসামরিক বিমানে এই ধরণের হামলাকে শিকাগো কনভেনশন (১৯৪৪) এবং মন্ট্রিল কনভেনশনের (১৯৭১) পরিপন্থী বলে দাবি করেছে তেহরান।
আমেরিকা অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই মহান এয়ারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এই বেসরকারি বিমান সংস্থাটি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) হয়ে কাজ করে। তবে ইরান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে একে নিখাদ মানবিক মিশন বলে দাবি করেছে। জেনিভা কনভেনশনের ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ত্রাণবাহী বিমানে হামলা চালানো যে দণ্ডনীয় অপরাধ, তা মনে করিয়ে দিয়ে ইরান আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ২০ Esk৬-এর এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে অসামরিক বিমানের ওপর এই ধরণের হামলা শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি। সব প্রান্তের কূটনীতিবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মাশহাদের এই রক্তক্ষয়ী অধ্যায় ভারত-ইরান মানবিক করিডোরে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।