
ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হানায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে এখন কে বসবেন খামেনেইয়ের সিংহাসনে? আর আন্তজার্তিক সূত্র মারফত খবর মিলছে যে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন তাঁরই পুত্র মোজতবা। তিনি ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের সমর্থনেই মসনদে বসতে চলেছেন বলে খবর।
৩৬ বছর পর ক্ষমতা বদল
ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে। তিনি ৩৬ বছর ইরানের দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৮৯ সালে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। তারপর ২০২৬ সালে এসে ইরান-ইজরায়েলের আকাশ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
খামেনেইয়ের যে মৃত্যু হয়েছে, সেটা প্রথম ঘোষণা করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বিষয়টা জানান। তারপর ইরানের সরকারের তরফেও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেওয়া হয়। আর তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দেয় যে এবার ইরানের দায়িত্ব সামলাবেন কে?
বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নির্বাচিত করেন Assembly of Experts। এটি একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীই ঠিক করে ইরানের মসনদে কে বসবে। তারাই বর্তমানে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে ইরানের দায়িত্ব এখন থাকবে মোজতবার কাঁধে।
কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে অ্যাসেম্বলি খামেনেইয়ের পুত্রকে বেছে নিয়েছে ঠিকই। তবে সেটা তাদের ইচ্ছেয় ঘটেনি। বরং ইরানের সেনা বা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের চাপেই মোজতবাকে বেছে নেওয়া হয়।
মাথায় রাখতে হবে, ইরানে অত্যন্ত ক্ষমতা রাখে রেভোলিউশনারি গার্ড। তাদের সারা দেশেই ক্ষমতা রয়েছে। তারা দেশের রাজনীতিকেও নিয়ন্ত্রণ করে। আর ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলার মাঝে পড়ে গার্ডের নির্দেশেই মোজতবাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয় বলে খবর।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মোজতবা ইরানের ক্ষমতার রাজনীতি অন্দরে পরিচিত মুখ। তিনি সেনার সঙ্গেও ভালভাবে যুক্ত। যদিও এর আগে তিনি কোনও আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না। কিন্তু রাজনীতিক খেলায় তিনিই আজ সর্বোচ্চ নেতা। যদিও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, তাঁর উপরও আক্রমণ করবে না তো ইজরায়েল, আমেরিকা? তিনি বেঁচে থেকে দায়িত্ব সামলাতে পারবেন তো?
আমেরিকার হুমকি
ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। শুধু ছাড় দেওয়া হয়েছে রাশিয়া এবং চিনের তেলবাহী জাহাজকে। আর এমন পরিস্থিতিতেই গর্জে উঠেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।