
ভয়াবহ বিক্ষোভের জেরে ইরানে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ২০০০ জনের। এই প্রথম ইরানি সরকারের কোনও ব্যক্তি এত সংখ্যক মৃত্যুর কথা স্বীকার করে নিলেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তরফে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ওই আধিকারিক দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তাকর্মী উভয়পক্ষ মিলে মোট ২০০০ জন মারা গিয়েছে। উভয়পক্ষের মৃত্যুর জন্যই 'জঙ্গি' বলে কিছু লোককে দায়ী করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আধিকারিক। তবে তিনি নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানাননি।
উল্লেখ্য বিষয় হল, দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ অন্তত গত তিন বছরের মধ্যে ইরানের ধর্মীয় শাসকদের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গত বছর ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি পেতেই এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যে কোনও দেশের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। উল্লেখ্য, ইরান বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ। ট্রাম্প আরও বলেন, বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় ইরানকে শাস্তি দিতে তিনি সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন অপশন ভেবে দেখছেন।
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান। তবে সরাসরি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে চিন। অন্যদিকে, আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান তার অধিকাংশ তেল চিনে রপ্তানি করে। তুরস্ক, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ভারতও ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় ইরানের দ্বিমুখী কৌশল
বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, ইরান এর আগে আরও বড় বিক্ষোভ সামাল দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে দেশটি এক অদ্ভুদ সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশটি তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা বিপাকে পড়েছে ইরান। দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ দাবি করেছেন, ইরান সরকার পতনের মুখে দাঁড়িয়ে।