
ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছলেন ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের ভাইস চেয়ারপার্সন ও এগজিকিউটিভ এডিটর ইন চিফ কলি পুরী। সেখানে একটি ক্যাফেতে বসে তিনি বলেন, ক্যাপুচিনো, চকলেট চিপ কুকিজ আর বইয়ে ভরা ক্যাফে, এসব সাধারণত কেউই নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশের সঙ্গে মেলাতে পারেন না। কিন্তু তেহরান থেকে সরেজমিন রিপোর্টিং সেই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করছে।
তেহরানের ক্যাফে ও কিছু কথা
একটি ক্যাফেতে হওয়া এই কথোপকথনে ধরা পড়েছে ইরানের দৈনন্দিন জীবনের ছবি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ইরানকে যেমন কঠোর দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়, বাস্তবে সেই ছবিটা যে অনেকটাই আলাদা, তা স্পষ্ট হল এই অভিজ্ঞতায়। ইন্ডিয়া টুডের বিদেশ বিষয়ক সম্পাদক গীতা মোহনের কথায়, 'কে ভেবেছিল আমরা তেহরানে বসে এমন একটা ক্যাফেতে আড্ডা দেব? তেহরানের রাস্তাঘাট খুবই সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন। এখানে বই আর সংস্কৃতির উপর জোর স্পষ্ট। অনেকেই মনে করেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে এখানে এমন কিছু পাওয়া যাবে না।' কফিতে চুমুক দিতে দিতে কলি পুরী বলেন, 'কে ভাবতে পারত, তেহরানে বসে ক্যাপুচিনো আর চকলেট চিপ কুকিজ খাব?'
নিষেধাজ্ঞা আর বাস্তব জীবন
রাশিয়া ও ইরানের মতো নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশ থেকে ধারাবাহিক রিপোর্টিং করতে গিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা, বাইরের ধারণা আর ভিতরের বাস্তবতার মধ্যে অনেক সময়েই বড় ফারাক থাকে। কলি পুরীর কথায়, 'নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশগুলোর অর্থনীতি বাইরে থেকে যতটা দুর্বল মনে হয়, বাস্তবে তা সবসময় চোখে পড়ে না। নাগরিকদের সমস্যা রয়েছে, কিন্তু একজন দর্শনার্থী হিসেবে যে ছবি কল্পনা করা হয়, তা পুরোপুরি মেলে না।'
গীতা মোহনও স্বীকার করেন, মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে। তবে তিনি বলেন, পশ্চিমি দুনিয়া যেভাবে ইরানকে দেখায়, বাস্তব সবসময় সেভাবে ধরা পড়ে না। তাই রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের সাবধান থাকতে হয়। এটা ইউরোপের যে কোনও শহর হতে পারে।
ক্যাফের পরিবেশ নিয়ে কলি পুরী বলেন, 'এই কফিশপটা ইউরোপের যে কোনও শহরে হতে পারত। সাজসজ্জা, বই, আলো-আঁধারি পরিবেশ আর মানুষের স্বাভাবিক আড্ডা, সব মিলিয়ে তেহরান নিয়ে প্রচলিত ধারণা ভেঙে যায়।'
নারী স্বাধীনতা ও পোশাক
আলোচনায় উঠে আসে নারী ও সামাজিক বিধিনিষেধের প্রসঙ্গও। রাস্তায় নীতি পুলিশের উপস্থিতি কতটা বোঝা যায়, সেই প্রশ্ন তোলেন গীতা মোহন। উত্তরে কলি পুরী বলেন, 'অনেক মহিলা হিজাব বা স্কার্ফ পরছেন, আবার অনেকেই পরছেন না। দেখে মনে হয়েছে, বিষয়টা অনেকটাই ব্যক্তিগত পছন্দের। আজ আমরা হিজাব পরেছি ঠান্ডার কারণে। সাধারণভাবে বাইরে আমাদের উপর কোনও চাপ অনুভব করিনি।' গীতা মোহন জানান, সরকারি বৈঠকের সময় অবশ্যই নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়।
ইন্ডিয়া টুডে টিম জানিয়েছে, তেহরান থেকে আরও সরেজমিন রিপোর্ট সামনে আসবে। লক্ষ্য, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশের জীবনকে স্টিরিওটাইপের বাইরে গিয়ে বাস্তবভাবে তুলে ধরা।