
Iran Israel war: শনিবার সকালেই পিছু হঠেছিল ইরান। 'প্রতিবেশী দেশে আর হামলা নয়,' জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। এবার সেই প্রেক্ষিতেই বড় দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প(Donald Trump)। যুদ্ধের চাপে নতিস্বীকার করেছে ইরান(Iran)। প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে কার্যত আত্মসমর্পণ করেছে তেহরান। মন্তব্য ট্রাম্পের।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘Truth Social’-এ পোস্ট করেন ট্রাম্প। লিখেছেন, 'ইরান মার খাচ্ছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়েছে। প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, আর তাদের দিকে গুলি চালাবে না।' তাঁর দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের লাগাতার সামরিক হামলার চাপেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তেহরান।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, 'হাজার হাজার বছরের ইতিহাসে এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ইরান হার স্বীকার করেছে।' এমনকি তিনি কটাক্ষ করে বলেন, এখন আর ইরান 'মধ্যপ্রাচ্যে দাদাগিরি চালানো দেশ' নেই। এখন থেকে তাদের পরিচয় 'মধ্যপ্রাচ্যের পরাজিত দেশ।' তাঁর হুঁশিয়ারি, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই পিছু হঠার ঘোষণা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি জানান, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলির উপর আর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে না। সাম্প্রতিক হামলার জন্য ক্ষমাও চান তিনি। তাঁর কথায়, 'আমরা অন্য কোনও দেশের উপর আক্রমণ করতে চাই না। প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।'
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণার পিছনে রয়েছে বড় কূটনৈতিক স্ট্র্যাটেজি। সরাসরি আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানো ইরানের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ফলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরানের নজর ছিল সেই সব দেশগুলির দিকে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থাকায় সেগুলিই সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছিল।
যদিও Iran ও Israel-এর মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত। শনিবার ভোরেও ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশেই ধ্বংস করে দেয় ইজরায়েলের ডিফেন্স সিস্টেম।
রাষ্ট্র সংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূতের দাবি, মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় ইতিমধ্যেই এক হাজারের বেশি ইরানি নাগরিক নিহত। আহত হাজার হাজার। এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহণ হয়। যুদ্ধের কারণে সেই পথে পরিবহণ ব্যাহত।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়। ইরানের এই নতুন ঘোষণা কি যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত? নাকি এটি কেবল সাময়িক কৌশল মাত্র? আপাতত তেহরান, ওয়াশিংটন ডিসি আর তেল আভিভের দিকেই নজর বিশ্লেষকদের।