
আশঙ্কা ছিলই। এবার তা বাস্তবায়িত হল। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পাসিংয়ের জন্য চড়া রেটে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত নিল ইরান। এমনিতেই এই প্যাসেজ নিয়ে টালমাটাল পরিস্থিতি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এটি। ইরান-ইজরায়েল সঙ্কটের মধ্যে এই অংশটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। আর ঠিক এহেন পরিস্তিতিতেই বড় সিদ্ধান্ত ইরানের। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলির উপর বেশি রেটে টোল আরোপ করা হতে পারে। পাশাপাশি আমেরিকা ও ইজরায়েলের জাহাজগুলিকে এই প্রণালী ব্যবহার করতে দেবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিল ইরান। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে নতুন করে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের সিকিউরিটি কমিটি এই প্ল্যানে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু টোল নয়, এর সঙ্গে জাহাজ চলাচলের নতুন প্রোটোকল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন বিষয়ও জড়িয়ে। একই সঙ্গে যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তাদের জাহাজগুলির বিষয়েও ভাবনা চিন্তা চলছে।
এই পরিকল্পনার পিছনে ইরানের উদ্দেশ্য় একটাই। তা হল হরমুজ প্রণালীর উপর নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা। পাশাপাশি ওমানের সঙ্গেও নাকি আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর, যৌথভাবে একটি আইনি ব্যবস্থা তৈরির কথা ভাবছে ইরান।
মাত্র কয়েক দিন আগেই মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ সামরিক পদক্ষেপের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) আংশিকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা করে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালী দিয়েই যায়। ফলে হরমুজ প্রণালী আংশিক বন্ধ হতেই তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। একাধিক দেশ জ্বালানি সঙ্কটে পড়ে। ভারতেও তার প্রভাব পড়ে। কারণ এদেশের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আসে।
তবে এই পরিস্থিতিতে স্বস্তির খবর একটাই। ভারতের ফ্ল্যাগ থাকা জাহাজগুলিকে পাসিংয়ের সুযোগ দিচ্ছে ইরান। ফলে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা কিছুটা হলেও মিটতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।