
ইরান এখন অগ্নিগর্ভ। কার্যত আগ্নেয়গিরির উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সে দেশের খামেনেই সরকার। যে কোনও মুহূর্তে উল্টে যেতে পারে পাশা। ৭ জানুয়ারি থেকে ইরানে বিক্ষোভের তীব্রতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। পাল্টা ইরানি শাসকগোষ্ঠীও বাড়াচ্ছে দমন-পীড়ন। অবস্থা এমন যে সব খবর পর্যন্ত দেশের বাইরে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।
যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলি প্রায় ৭৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানোর ফলে অন্তত ২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে টাইম ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন এক অজ্ঞাত পরিচয়ের চিকিৎসক। তেহরানের ৬টি হাসপাতালেই এত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে জানিয়েছেন তিনি। যদিও টাইম ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে এই মৃত্যুর সংখ্যা যাচাই করা হয়নি বলেই জানানো হয়েছে। বিক্ষোভ ১০০ টিরও বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে সরকার ইন্টারনেট এবং মোবাইল পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে।
কেন ইরানে আন্দোলন?
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়া ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এখন একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং ইরানি মুদ্রার ডলারের বিপরীতে পতন সরাসরি ইসলামি শাসনকে চ্যালেঞ্জ করছে। গত ৭ জানুয়ারি থেকে ইরানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট এবং মোবাইল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও তেহরান, তাবরিজ, মাশহাদ এবং কুর্দি অঞ্চল সহ ১০০ টিরও বেশি শহরে বিক্ষোভ হচ্ছে।
শাসক দলের কি দাবি?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই বিক্ষোভকারীদের বিদেশী শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিক্ষোভে জড়িতদের "ঈশ্বরের শত্রু" হিসেবে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
এখন কী অবস্থা?
শনিবার, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, তেহরানের পানাক স্কোয়ারে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী হাজির হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা রাতে স্কোয়ারে সরকার বিরোধী স্লোগান দিচ্ছে। ব্যাপক ঠান্ডা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ বাসন বাজিয়ে এবং জোরে চিৎকার করে নিজেদের অধিকারের কথা বলছেন।
আমেরিকার এন্ট্রি পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দিতে পারে
ইরানের বিক্ষোভকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুপ্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে আমেরিকা। দিন ১০ আগে বিক্ষোভ শুরুর সময় থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানো হলে, আমেরিকাও ইরান আক্রমণ করবে। তবে এরপরেও ইরানে বহু বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি ট্রাম্পের সদয় ভাবকে ব্যবসায়িক দিক থেকেই বিশ্লেষণ করছেন। ইরান আদতে অপরিশোধিত তেলের খনি। আর অশোধিত তেলের কারণেই ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সদয় হচ্ছে আমেরিকা।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, 'ইরান বেশ সমস্যায় পড়েছে। আমার মনে হচ্ছে মানুষ এমন আন্দোলন করছে যা কেউ কল্পনাও করেনি।' তাঁর সংযোজন, 'আমরা ইতিমধ্যেই খুব স্পষ্ট ভাবে ওদের সতর্ক করে দিয়েছি। যদি তারা অতীতের মতো মানুষ হত্যা শুরু করে তাহলে আমরাও হস্তক্ষেপ করব। যেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে সখানেই আমরা তাদের কঠোর ভাবে আঘাত করব।' অর্থাৎ মার্কিন সামরিক বাহিনীকে পাঠানো হবে বলেই কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।