
ইরানকে মারাত্মক হুঁশিয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তাঁর যদি ক্ষতি হয় তাহলে তিনি ইরানকে পৃথিবীর ইতিহাস থেকে মুছে ফেলবেন। এমনই হুমকি দিয়েছেন তিনি। তারপর থেকে ফের ইরান-আমেরিকা সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরানের প্রতি তিনি যে ক্ষুব্ধ তা আগেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এবার যা বললেন তা সত্যিই উদ্বেগজনক।
ট্রাম্পের অভিযোগ, তাঁকে ইরানি নেতারা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছন। তারপরই তাঁর সংযোজন, এর পরিণাম মোটেও ভালো হবে না। তিনি তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, যদি তেমন কোনও ঘটনা ঘটে তাহলে আমেরিকার তরফেও পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এবং তা মারাত্মক হবে।
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আগের রাষ্ট্র প্রধান যদি এই বিষয়ে সচেতন থাকতেন বা পদক্ষেপ করতেন তাহলে আজকের এই দিন আসতই না। তাঁর মতে, 'এই বিষয়ে বাইডেনের আগেই খোলাখুলি কথা বলা উচিত ছিল। তিনি তা করেননি। তবে এখন বিষয়টা সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে। বর্তমান ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্টদের এই বিষয়ে একে অপরের প্রতি সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।'
২০২০ সালে ইরানের জেনারেল কাসেমের মৃত্যুর পর থেকে সেই দেশের অনেকেই প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরোধিতা করেছে। তার প্রভাব দেখা যায় ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা তখন ট্রাম্পের প্রাণ সংশয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি। এদিকে এখন ইরানে বিদ্রোহের কারণে ফের আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
তবে ট্রাম্পকে হুমকি দেওয়া হলেও তিনি যে নরম মনোভাব দেখাবেন না সেকথা সাফ জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ইরানের উপর চাপ প্রয়োগ করেছেন। আর সেই চাপ বজায় রাখতে সব বিকল্প পথ খোলা আছে।
এদিকে ইরানে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। খামেনেই সরকারের বিরুদ্ধে এখনও গণবিদ্রোহ চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশ ইতিমধ্যে ৫ হাজার বিদ্রোহী প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও আরও অনেক খবরে প্রকাশ মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ট্রাম্প যদিও হুমকি দিয়েছেন, খামেনেই দমন-পীড়ণ না থামালে আমেরিকা হস্তক্ষেপ করবে। এদিকে ইরানের সরকারের দাবি, আমেরিকার উস্কানিতেই বিদ্রোহীরা রাস্তায় নেমেছে।