
মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েকদিন ধরে চলা যুদ্ধ এবার বিপজ্জনক মোড় নিতে চলেছে। শুধু সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে নয়, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল কাঠামোকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের মিডিয়া নেটওয়ার্ক তাসনিম নিউজ সম্প্রতি একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, আমেরিকান আইটি কোম্পানিগুলির অফিস এবং কাঠামোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তালিকায় রাখা হয়েছে।
বড় আইটি কোম্পানিগুলি আক্রমণের মুখে
এই তালিকায় গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, এনভিডিয়া, আইবিএম, ওরাকল এবং প্যালান্টির টেকনোলজিসের মতো কোম্পানির নাম। প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান দাবি করে যে এই কোম্পানিগুলি আমেরিকান এবং ইসরায়েলি সামরিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত এবং তাই যুদ্ধের ক্ষেত্রে এ গুলিকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই কোম্পানিগুলির অনেক গুরুত্বপূর্ণ অফিস এবং ডেটা সেন্টারও ইরানের এই তদন্তের আওতায় এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, গুগলের অফিস দুবাই এবং কাতারে রয়েছে, অন্যদিকে মাইক্রোসফটের ক্লাউড কাঠামো এবং আঞ্চলিক সদর দপ্তরও এই অঞ্চলে অবস্থিত। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং বাহরাইনে অ্যামাজনের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাউড ডেটা সেন্টার রয়েছে।
ডিজিটাল জগতের উপর আক্রমণ
প্রকৃতপক্ষে, এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো, ডিজিটাল বিশ্বের অবকাঠামো সরাসরি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। অতি সম্প্রতি, ১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে, ইরানি ড্রোন হামলা বেশ কয়েকটি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস ডেটা সেন্টারকে প্রভাবিত করেছে। এই আক্রমণগুলি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং বাহরাইনের ক্লাউড কাঠামোর ক্ষতি করেছে এবং অনেক অনলাইন পরিষেবা ব্যাহত করেছে।
প্রতিবেদনগুলি ইঙ্গিত দেয় যে এই আক্রমণগুলির ফলে স্টোরেজ, ডাটাবেস এবং কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্মের মতো ক্লাউড পরিষেবাগুলিতে ব্যাঘাত ঘটেছে, যা অনেক কোম্পানি এবং প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল পরিষেবাগুলিকে প্রভাবিত করেছে, এমনকি ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিষেবাগুলিকেও প্রভাবিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এখন যুদ্ধ কেবল সেনাবাহিনী বা অস্ত্রের মধ্যে নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত কাঠামোকে লক্ষ্য করেও লড়াই করা যেতে পারে।
ইরান জনগণকে সতর্ক করেছে
ভবিষ্যতে এই স্থানগুলিতে আক্রমণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে ইরান নাগরিকদের ব্যাংক এবং প্রধান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির অফিস থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাত ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার এবং ব্যবসার উপর প্রভাব ফেলছে। যদি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির ডেটা সেন্টার এবং ডিজিটাল কাঠামোর উপর আক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তাহলে এর প্রভাব কেবল আঞ্চলিকভাবে নয়, বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট এবং ক্লাউড পরিষেবার উপর পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন যে এটি সম্ভবত আধুনিক যুদ্ধের একটি নতুন রূপ, যেখানে শত্রু দেশকে তার সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে নয় বরং তার প্রযুক্তিগত মেরুদণ্ড অর্থাৎ ডেটা সেন্টার, ক্লাউড নেটওয়ার্ক এবং ডিজিটাল সিস্টেমকে লক্ষ্য করে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।