
অগ্নিগর্ভ ইরানে পরিস্থিতি ভয়াবহ। গত দু'সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ এখন কার্যত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাল্টা দমন-পীড়ন শুরু করেছে খামেনেই সরকারও। গত পাঁচ দিন ধরে আন্দোলনের ঝাঁঝ যত বেড়েছে তত অত্যাচার শুরু করেছে ইরান সরকার। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, আন্দোলনের জেরে ইরানে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬৪৬ জনের। একটি মার্কিন মানবাধিকার সংগঠনের তরফে এই দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনটির তরফে দাবি করা হয়েছে, ইরানে সংবাদমাধ্যমকে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রাখা হয়েছে। তবুও কিছু তথ্য বেরিয়ে আসছে। এমন আরও তথ্য বেরিয়ে এলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। কারণ গত কয়েকদিনে ইরান সরকারের তরফে মৃতের সংখ্যা আর জানানো হচ্ছে না।
এক ২৬ বছরের যুবককে ফাঁসির শাস্তি দিতে চলেছে
খামেনেই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার 'অপরাধ'-এ এক তরতাজা ২৬ বছরের যুবককে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে ইরানের আদালত। তাঁর একমাত্র অপরাধ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন এরফান সোলতানি নামে ওই যুবক। বুধবারই তাঁর ফাঁসির শাস্তি কার্যকর করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইজরায়েল ও আমেরিকা-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জেফিড-এ এই দাবি করা হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সোলতানির ফাঁসি কার্যকর হলে তা হবে চলতি আন্দোলনের জেরে প্রথম প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড।
তবে এরফানের বিচারের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নরওয়েতে রেজিস্টার্ড কুর্দি মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গা অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস। গ্রেপ্তারির পর এরফানকে কোনও আইনজীবী দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকী তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও মেলেনি। গ্রেপ্তারির মাত্র ২ দিনের মধ্যেই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃত্যুদন্ডের সাজা শুনিয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, সোলতানির পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এই সাজা বদলানোর কোনও সুযোগ নেই এবং নির্ধারিত দিনেই তা কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে, সোলতানির বোন আইনজীবী হলেও, তাঁকে বিচারের কোনও নথি দেখানো হয়নি ও আদালতে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে সব মিলিয়ে ইরান যেন এখন হয়ে উঠেছে খামেনেই-এর স্বৈরাচারী রাজত্ব।