
Iran US Israel Conflict: ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা আরও তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে খবর। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষ নেতার মৃত্যুর দাবি সামনে এসেছে। যদিও এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, উচ্চমাত্রার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হতে পারে। কারণ দেশটির অর্থনীতি আগেই চাপে রয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে ইরানের তেল রফতানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুদ্রার দাম পড়ে গেছে, মূল্যবৃদ্ধি চরমে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে তেল উৎপাদন ও রফতানি আরও ব্যাহত হতে পারে। তাতে অর্থনৈতিক সংকট গভীরতর হবে। জনরোষ বাড়তে পারে, তৈরি হতে পারে বিক্ষোভ পরিস্থিতি।
সামরিক শক্তির বিচারে ইরানের হাতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে। আনুমানিক দুই হাজার থেকে তিন হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরনের সশস্ত্র ড্রোন রয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে আধুনিক যুদ্ধবিমান শক্তিতে তারা পিছিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্টেলথ জেট সহজেই আকাশসীমায় প্রবেশ করতে সক্ষম বলে সামরিক বিশ্লেষকদের মত।
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে চাপে পড়তে পারে। দেশটি অসমমিত বা গেরিলা ধরনের যুদ্ধে দক্ষ হলেও প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে দুর্বল বলে অনেকে মনে করছেন।
এদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা মার্কিন ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কিছু স্থাপনা এবং বিমানবাহী রণতরীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেই দাবি খারিজ করেছে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
দেশের অভ্যন্তরেও চাপ বাড়ছে বলে বিশ্লেষণ। দীর্ঘ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। ইরানের একাংশের মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি অসন্তোষ আগেই ছিল, যুদ্ধ তা আরও তীব্র করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে ‘নেতৃত্ব নির্মূল’ কৌশল নিয়েছে বলে দাবি উঠছে, তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ দেশটির কমান্ড ব্যবস্থা বহুস্তরীয়, বিপ্লবী গার্ড, নিয়মিত সেনা ও বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠী বিস্তৃতভাবে সক্রিয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে চাপ বাড়লে পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, সময় ইরানের পক্ষে নয়। তারা হয়তো সপ্তাহ বা কয়েক মাস লড়াই চালাতে পারবে, কিন্তু বছরের পর বছর উচ্চমাত্রার যুদ্ধ চালানো কঠিন। অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপে দ্রুত কোনও কূটনৈতিক সমঝোতাই শেষ পর্যন্ত তেহরানের কাছে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য পথ হতে পারে।