
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ল। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের ঘোষণা, ১ এপ্রিল থেকে তারা আমেরিকার প্রযুক্তি ও শিল্প সংস্থাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এই হুঁশিয়ারি ইরানের সরকারি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তারপর থেকেই বাড়ছে উদ্বেগ।
IRGC-এর দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েলি হামলায় ইরানের ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৮টি বড় মার্কিন সংস্থা যেমন Microsoft, Google, Apple, Intel, IBM, Tesla ও Boeing—কে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, তেহরানের সময় রাত ৮টা (ভারতীয় সময় রাত ১০টা) থেকে এই হামলা শুরু হতে পারে। পাশাপাশি, ওই সব সংস্থার কর্মীদের দ্রুত অফিস ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
কেন টেক সংস্থাগুলিকে টার্গেট করা হচ্ছে?
IRGC-এর মতে, আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের অভিযোগ, আমেরিকার টেক সংস্থাগুলি এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও হামলার পরিকল্পনায় সাহায্য করছে। এই সংস্থাগুলির ক্লাউড সার্ভিস, ম্যাপিং টুল এবং ডেটা বিশ্লেষণ ক্ষমতা সামরিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে ইরান।
যুদ্ধে AI ও প্রযুক্তির ভূমিকা
আমেরিকা বহু বছর ধরেই সামরিক অভিযানে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে আসছে। স্যাটেলাইট, ড্রোন, সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স এবং রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য লক্ষ্য চিহ্নিত করা হয়। AI এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করে তুলেছে। বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণ করে AI সন্দেহজনক গতিবিধি, অবস্থান বা যোগাযোগের ধরন শনাক্ত করতে পারে, যা মানব বিশ্লেষকের পক্ষে সবসময় সম্ভব নয়।
এর ফলে, লক্ষ্য নির্ধারণ থেকে আক্রমণ পর্যন্ত সময় কমে যায় এবং নির্ভুল হামলা চালানো সহজ হয়। কিছু ক্ষেত্রে AI নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেও টার্গেট করতে পারে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে
এই হুমকির ফলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি কেবল সামরিক সংঘর্ষেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং বাণিজ্যিক অবকাঠামোকেও সরাসরি সংঘাতের অংশ করে তুলছে।