
মহাপ্রলয়ের প্রহর গুনছে বিশ্বের একটি বড় অংশ। রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে কামচাটকা এলাকায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরে জাপান, আমেরিকা পর্যন্ত সুনামির হাই অ্যালার্ট। ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৮.৮ রিখটার স্কেল। অতএব শক্তিশালী কম্পন। ইতিমধ্যেই বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়া শুরু হয়ে গিয়েছে মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে বলছে, ৩ মিটার পর্যন্ত ঢেউয়ের উচ্চতা হতে পারে।
বিশ্বের বড় অংশে সুনামি অ্যালার্ট
মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের অনুমান, রাশিয়ার ওই ভূমিকম্প এতটাই শক্তিশালী যে, জাপান, হাওয়াই ও রাশিয়া সহ প্রশান্ত মহাসাগরের একাধিক উপকূলে সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। এই প্রতিবেদনটি যখন লেখা হচ্ছে, তখনই জাপানের ইশিনোমাকি বন্দরে সুনামি আছড়ে পড়েছে। ঢেউয়ের উচ্চতা ৫০ সেন্টিমিটার। এছাড়াও আরও ৪০টি উপকূলে বিশালাকার ঢেউ আছড়ে পড়েছে।
ভয়ঙ্কর তাণ্ডবের প্রহর গুনছে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা জানিয়েছেন, তিনি পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য একটি জরুরি কমিটিও গঠন করেছে জাপান সরকার। ২০১১ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি ফিরেছে জাপানে। সে বার ৯ রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের পরেই সুনামি আছড়ে পড়েছিল। ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্র ইতিমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে। খালি করা হয়েছে গোটা এলাকা। কারণ, ২০১১ সালে সুনামির জেরে এই পরমাণু চুল্লি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
আরও কোন কোন দেশে পৌঁছতে পারে সুনামির ঢেউ?
ফিলিপিন্স, ফিজি, ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাপুয়া নিউ গিনি, তাইওয়ান, টোঙ্গা, সামোয়া, মার্কিন সামোয়া-সহ অন্তত ৫০টিরও বেশি অঞ্চলে ০.৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত ঢেউ পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, চিন, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রুনেই, ভিয়েতনামের মতো দেশের উপকূলবর্তী এলাকায় ঢেউয়ের উচ্চতা ০.৩ মিটারেরও কম থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
২০১১ সালের সেই ভয়াবহ দিন
এই ভূমিকম্পের ঘটনা অনেকের মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১১ সালের জাপানের ভয়াবহ ভূমিকম্প আর সুনামিকে। সেবার টোহোকু অঞ্চলে ৯.১ মাত্রার কম্পনের পরে সুনামিতে মারা গিয়েছিলেন অন্তত ১৫,০০০ মানুষ। বহু মানুষ গৃহহীন হয়েছিলেন, আর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতির জেরে বছর ধরে চলেছিল আতঙ্ক। এবারও ঠিক সেই রকমই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে উপকূলবর্তী দেশগুলিতে।