
এপস্টিন-কাণ্ডে ভারতীয়-যোগ? Jeffrey Epstein-এর মামলার নথি ঘিরে ফের তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল।নথিতে এই প্রথমবার এক ভারতীয় তরুণীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের দাবি, এই মহিলাও এপস্টিনের 'নেটওয়ার্কে'র অন্যতম শিকার। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই আমেরিকা থেকে ভারত; দুই দেশেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ই-মেলেই ইঙ্গিত, সাহায্যের আবেদন
মার্কিন বিচার দফতরের প্রকাশিত ফাইল অনুযায়ী, ১৩ জানুয়ারি একটি ই-মেলেই এর সূত্রপাত। ই-মেলটি পাঠিয়েছিলেন আইন সংস্থা Edwards Pottinger LLC-এর আইনজীবী ব্রিটনি হেন্ডারসন। তিনি এপস্টিন-কাণ্ডে নির্যাতিতাদের পক্ষে মামলা লড়ছিলেন।
উক্ত ই-মেলে মার্কিন প্রশাসনের কাছে তিনি জানতে চান, কয়েক জন ভুক্তভোগী মানসিক চিকিৎসা বা থেরাপি নিতে চান। তাঁদের মধ্যে এক জন ভারতীয় তরুণীও আছেন। তিনি বর্তমানে ভারতে আছেন। তাঁর জন্যও কি ছ’টি বিনামূল্যের থেরাপি সেশন মিলতে পারে? ভারতে বসে কি সেই পরিষেবা পাওয়া সম্ভব? এমনই প্রশ্ন করা হয় সেই ইমেলে।
ক্ষতিপূরণ ও থেরাপি
ই-মেলের জবাবে মার্কিন আধিকারিকেরা জানান, এপস্টিনের নির্যাতিতদের ক্ষতিপূরণ ও মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্গঠনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের New York Office of Victim Services-এর আওতায় নির্যাতিতদের সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইমার্জেন্সি ভিকটিম সহায়তা তহবিলও রয়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, ভারতীয় তরুণীর পরিচয় সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও নথিতে তাঁর নাম বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই তা লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
এই ভারতীয় তরুণী কে?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন; এই মহিলা কে? কী ভাবে এপস্টিনের জালে জড়ালেন? নথিতে তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে। এমনিতেও আন্তর্জাতিক নীতি অনুযায়ী, এই জাতীয় অপরাধের মামলায় নির্যাতিতার পরিচয় গোপন রাখা হয়। ফলে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
তবে গোটা বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা তুঙ্গে। এক্স-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নানা অনুমান ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে কোনও পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, মার্কিন ধনকুবের Jeffrey Epstein এর যৌন নির্যাতন ও মানব পাচারের অভিযোগের ঘটনা কারও অজানা নয়। নাবালিকা ও তরুণীদের উপর আর্থ-সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই মামলায় বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই কেলেঙ্কারির তদন্ত সংক্রান্ত বহু নথি প্রকাশিত হয়। আর তাতেই উঠে আসে বহু নাবালিকা ও তরুণীর নাম।