Advertisement

Pakistan: যুদ্ধবিমান বেচেই নাকি মালামাল হচ্ছে পাকিস্তান, খাজার দাবি, 'IMF-এর ঋণ আর লাগবে না'

পাকিস্তানের দাবি ঘিরে হাসির রোল। ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের পর থেকেই নাকি হট কেকের মতো বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান। আর তাই সেই বেচেই বড়লোক হওয়ার দিবাস্বপ্ন দেখছে পড়শি দেশ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খজা আসিফের দাবি নিয়ে চলছে হাসাহাসি।

খাজা আসিফখাজা আসিফ
Aajtak Bangla
  • ইসলামাবাদ,
  • 08 Jan 2026,
  • अपडेटेड 9:41 AM IST
  • 'হট কেকের মতো বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান'
  • IMF-এর ঋণ নাকি লাগবেই না তাদের
  • দাবি করলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খজা আসিফ সম্প্রতি দাবি করেছেন, ভারতের সঙ্গে গত বছর মে মাসে ৪ দিনের সংঘর্ষের পর সে দেশের সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা এতটাই বেড়েছে, আগামী ৬ মাসের মধ্যেই IMF-এর ঋণের প্রয়োজন ফোরাবে তাদের। বিশেষ করে JF-17 এবং J-10 রফতানি বৃদ্ধিই এর কারণ। পাক মন্ত্রীর এই দাবি কার্যত হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। 

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং যুদ্ধবিমান উৎপাদনে দেশটির প্রকৃত ভূমিকা বিবেচনা করলে এই দাবি সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত। 

পাকিস্তানি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক আয়েশা সিদ্দিকার মতে, খজা আসিফ প্রতিরক্ষা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্ত। আয়েশার কথায়, 'পাকিস্তানের JF-17 বিমানে প্রকৃত উৎপাদন অংশ মাত্র ৩৫–৫৮ শতাংশ। বাকি অংশ চিন সহ অন্যান্য দেশ থেকে আসে। এই সামান্য অংশীদারিত্ব নিয়ে IMF-এর মতো সংস্থার ঋণ ছাড়ার কথা ভাবা অবাস্তব।'

ধরা যাক,

একটি JF-17 বিক্রি হয় ১৫ মিলিয়ন ডলারে

একটি J-10 বিক্রি হয় ৪০ মিলিয়ন ডলারে

তবু প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের হাতে আসে এর কেবল একটি অংশ। এই আয়ের পরিমাণ পাকিস্তানের মোট ঋণ ও দায়, ২০২৬ সালের শুরুতে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় অতি নগণ্য। এমনকী, শত শত বিমান বিক্রি হলেও এই ঋণের পাহাড়ে তা প্রায় অদৃশ্যই থেকে যাবে।

খজা আসিফ তাঁর দাবির ভিত্তি হিসেবে ভারচ-পাক সংঘর্ষের সময়ে যে বিমানগুলির সাফল্যের কথা বলছেন, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ। বাস্তবে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ৪ থেকে ৯টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে

ভোলারি ও নূর খান ঘাঁটিসহ ১১টি বিমান ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে-

রানওয়ে, হ্যাঙ্গার, রাডার সিস্টেম ও একটি Saab 2000 AWACS ধ্বংস হয়েছে

প্রায় ২০% অবকাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়ে

এই ক্ষতিগুলোই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে যুদ্ধবিরতিতে যেতে বাধ্য করে।

পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদ কায়সার স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, 'পাকিস্তান ইতিমধ্যেই ঋণখেলাপিতে রয়েছে। পুরনো ঋণ শোধ করে নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষমতাই নেই। ২০২৫ অর্থবছরে পাকিস্তানকে ঋণ পরিষেবার জন্য ব্যয় করতে হয়েছে ৮.৯ ট্রিলিয়ন, যা কেন্দ্রীয় সরকারের মোট আয়ের অর্ধেকেরও বেশি। চিন বা সৌদি আরব যদি একদিন ঋণ রোলওভার বন্ধ করে দেয়, তাহলে অর্থনীতি কার্যত ভেঙে পড়বে।'

Advertisement

IMF-এর চাপে পাকিস্তানকে তাদের জাতীয় বিমান সংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (PIA) বেসরকারিকরণ করতে হয়েছে। এতটাই চাপে থাকা একটি অর্থনীতির পক্ষে যুদ্ধবিমান বিক্রি করে কয়েক মাসের মধ্যে IMF ছাড়ার দাবি বাস্তবসম্মত নয়। ফলে খজা আসিফের বক্তব্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের চেয়ে রাজনৈতিক কল্পনাই বেশি বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। একটি এমন কল্পনা, যা পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নয়। 
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement