
রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত তেল না কিনবে না ভারত। নয়াদিল্লি এমন আশ্বাস দিয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। মস্কোর উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তার প্রেক্ষিতে রুশ সংবাদসংস্থা তাসের প্রতিবেদনে রুবিওর রুবিওর মন্তব্য জল্পনা জোরাল করল।
শনিবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে রুবিও বলেন,'রাশিয়ার তেলের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা। বৈঠকে ভারত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা আর অতিরিক্ত রাশিয়ান তেল কিনবে না। এই দিশায় বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে ইউরোপও'।
মার্কিন বিদেশসচিব এমন দাবি করলেও নয়াদিল্লি এখনও বিষয়টি স্পষ্ট করেনি। ওই একই সম্মেলনে রাশিয়ার তেল আমদানি কমানো নিয়ে জবাব দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন,'আমরা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের নীতিতে বিশ্বাসী। এটাই আমাদের ইতিহাস ও বিবর্তনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে এই নীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে'।
জ্বালানি কেনা প্রসঙ্গে তাঁর অভিমত,'তেলের জোগান, খরচ এবং ঝুঁকি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয় তেল সংস্থাগুলি'। পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে তিনি যোগ করেন,'প্রতিনিয়ত নিজেদের অবস্থান বদল করছে দেশগুলি। আপনার প্রশ্নের মূল নির্যাস যদি এটাই হয় যে আমরা স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেব কিনা- উত্তর হল, হ্যাঁ।'
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সস্তায় রাশিয়া থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি করে আসছে ভারত। তাতেই গোঁসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেন। হালে আগে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা তৈরি হয়েছে। তাতে শুল্ক কমিয়ে করা হয়েছে ১৮ শতাংশ। কিন্তু রাশিয়ার তেল ক্রয় নিয়ে এখনও স্পষ্ট করে কোনও কথা বলেনি নয়াদিল্লি।
এমন প্রেক্ষাপটে রুবিওর বক্তব্যে জল্পনা উস্কে দিয়েছে। প্রণিধানযোগ্য, রুবিওর এই মন্তব্যের সপ্তাহখানেক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দুই দেশের মধ্যে একটি বৃহত্তর সমঝোতার অংশ হিসেবে ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিয়েছিলেন রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তাঁর দাবি, মার্কিন আধিকারিকরা ছাড়া আর কেউ রাশিয়ার তেল বন্ধের কথা বলেনি। ভারত সরকারে তরফেও এমন বার্তা আসেনি।