
এবার মুখ খুললেন ভেনেজুয়েলার প্রধান নিকোলাস মাদুরোর ছেলে গুয়েরা। তাঁদের দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকরা করা হয়েছে। দোষীরা শাস্তি পাবে। চরম হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
ইতিহাসের নানা প্রসঙ্গে টেনে গুয়েরার হুমকি, ইতিহাস কোনওদিন কাউকে ক্ষমা করেনি। দোষীরা আজ বা কাল শাস্তি পেয়েছে। এক্ষেত্রেও পাবে। যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের সামনে আনা হবে। শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি আমেরিকার নাম করলেও ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ করেননি। তবে দেশে যে উত্তেজনা রয়েছে তা মেনে নিয়েছেন মাদুরোর একমাত্র ছেলে। তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান তিনি।
নিকোলাস আমেরিকার হাতে বন্দি হওয়ার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পরে বিবৃতি জারি করেন গুয়েরা। সেই অডিওবার্তা এখন ভাইরাল। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'আমরা শান্তি বজায় রাখছি। ভালো আছি। তবে দেশের মানুষ ক্ষিপ্ত। বহিরাগতরা আমাদের দুর্বল দেখাতে চায়। কিন্তু তা তারা পারবে না। আমরা মর্যাদার সঙ্গে থেকেছি। থাকবও ভবিষ্যতে। সম্মানের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করব। দেশের আম আদমি আমাদের সঙ্গে থাকবে। আমরা রেগে আছি। সেটাই স্বাভাবিক। মায়ের নামে শপথ করে বলছি, দোষীদের ছা়ড়া হবে না।'
গুয়েরা দাবি করেন, আমেরিকা তাঁর বাবা ও মাকে ফিরিয়ে দেবে। তাঁদের ফের স্বমহিমায় দেখা যাবে। তবে আমেরিকার মতো শক্তিশালী বহিরাগতকে মোকাবিলার জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় প্রয়োজন। তবেই দেশ তার মর্যাদা ফিরে পাবে।
গুয়েরা নিজেও একজন আইন প্রণেতা। ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির সদস্য। আমেরিকার দাবি, গুয়েরা নিজে একজন প্রভাবশালী মাদক পাচারকারী। তিনি দ্য প্রিন্স নামে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে আমেরিকায় মাদক পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
১৯৯০ সালের ২১ জুন জন্ম গুয়েরার। ছোটোবেলায় তিনি সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার বিখ্যাত এল সিসটেমা অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজাতেন তিনি। পরে রাজনীতিতে আসেন। ২০১৩ সালে নিকোলাস মাদুরো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি একাধিক সরকারি পদের দায়িত্ব পান। ঠিক তখন থেকেই মাদুরোর বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ আসতে শুরু করে।