
শাসকদের অকর্মণ্যতার জেরে ভুগতে হচ্ছে পাক নাগরিকদেরই। পাকিস্তানে অবস্থা এখন এমনটাই। ইরান যুদ্ধের জেরে সারা বিশ্বেই দেখা দিয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। কোনও কোনও দেশে রয়েছে বিদ্যুতের সঙ্কটও। কিন্তু এই সঙ্কটের মধ্যে নিজেদের ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তানকে পাঁকে ডুবিয়ে ফেলেছেন শাহবাজ শরিফের মতো নেতারা।
পাকিস্তানে অবস্থা এখন কেমন?
আজ ৭ এপ্রিল রাত ৮টার পর দেশের বেশিরভাগ এলাকার বাজার ও শপিং মল বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে পাক সরকার। এর মানে হল, এখন থেকে পাকিস্তানের নাইট লাইফ-এর অর্থ রাত ৮টার মধ্যে বাড়ি ফেরা! পাক সরকারের দাবি, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় তেল ও গ্যাস সাশ্রয়ের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদপত্র ‘ডন’ এই খবর কনফার্ম করা হয়েছে।
হাহাকার পাকিস্তানিদের মধ্যে
পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম বর্তমানে আকাশ ছুঁয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম একটা সময় ছিল ৪৫৮.৪০ টাকা (পাকিস্তানি রুপি)। পরে, সরকার ‘দয়া’ দেখিয়ে দাম কমিয়ে ৩৭৮ PKR করে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এটা স্বস্তির চেয়ে বেশি ঠাট্টার মতো মনে হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে, মানুষ ঠাট্টা করে বলছে তারা পেট্রোল নয়, গাড়িতে সোনা ভরছে!
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে, পাক জনগণের ধৈর্যের বাঁধ এখন ভেঙে পড়ছে। মানুষ সোশ্য়াল মিডিয়ায় খোলাখুলিভাবে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছে । একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "পেট্রোল এখন সোনা হয়ে গেছে, ১০০ টাকায় একটা বাটিও ভরে না। সরকার কী ভাবছে?" আরেকজন ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছেন, "অন্য একজায়গায় যুদ্ধ চলছে, আর এখানে আমাদের পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে।"
পাকিস্তানে জ্বালানির দাম কত?
পাকিস্তানও জ্বালানির দাম নিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন। পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়ে শাহবাজ শরীফ সরকার দিশেহারা বলে মনে হচ্ছে। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সরকার দু'বার পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৪৫৮.৪১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৫২০.৩৫ টাকায় নিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে, জনগণের প্রতিবাদের মুখে সরকার হঠাৎ করে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৮০ টাকা কমিয়ে ৩৭৮ টাকা করে। এই ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি পাক জনতাকে আর্থিক ভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে।