
বেশ কিছু দিন ধরেই পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। সেই আবহাওয়া ঠান্ডা হওয়ার নামই নেই। বিশেষত, পাকিস্তানের জন্যই এখনও যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে। এই যেমন আবার আফগানিস্তানের কান্দাহার এলাকার তালিবান ঘাঁটিতে হামলা চালাল পাকিস্তান। তাদের পক্ষ থেকে বিমান হামলা চালান হয়েছে বলে দাবি। আর এই আক্রমণের পর সাফাইও গেয়েছে ইসলামাবাদ। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে আফগানিস্তানের ড্রোন হামলার প্রত্যুত্তরেই এই আক্রমণ চালান হয়েছে।
পাকিস্তানের আধিকারিকদের তরফে দাবি করা হয়, পাকিস্তানি এলাকায় গত কয়েক দিনে একাধিক ড্রোন দেখা যায়। এই সব ড্রোনগুলিকে সময়েই প্রতিহত করা হয়। ড্রোনগুলি নিজের লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। যদিও কিছু জায়গায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ার ফলে ক্ষতি হয়েছে। কুয়েত্তাতে এই ধ্বংসাবশেষের জন্য দুই শিশু আহত। এছাড়া কোহাট এবং রাওয়ালপিণ্ডিতেও একাধিক মানুষ জখম বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আর এই ঘটনার জন্য আফগানিস্তানকেই দায়ী করেছে পাক সেনা। তাদের পক্ষ থেকে জবাবে তালিবানদের উপর আক্রমণ করা হয় বলে খবর।
পাকিস্তান জানিয়েছে, সেনা ঘাঁটিতে হামলা বা সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ করে 'রেড লাইন ক্রস' করে ফেলেছে তালিবানরা। তারা আরও অভিযোগ করেছে যে এই সব ড্রোন অ্যাটাক পরিচালিত হয়েছে আফগানিস্তানের কান্দাহার মিলিটারি বেস থেকে। তারপরই পাকিস্তান এয়ারস্ট্রাইক শুরু করে বলে জানান হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদের আকাশ পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পাক সেনার পক্ষ থেকে। তারা সাবধান থাকতে চেয়েই এই কাজটা করেছে বলে দাবি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ চলতে থাকলে আদতে যুদ্ধ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হবে। তাতে প্রাণ যাবে সাধারণ মানুষের। কিন্তু পাকিস্তান যে সমঝে যাওয়ার নয়। তারা যে এহেন আক্রমণ চালিয়েই যাবে, সেটা আর নতুন করে বলার নয়।
সামা টিভির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই আক্রমণ মূলত তালিবানদের প্রযুক্তি ঘাঁটি এবং অস্ত্র মজুত করে রাখার জায়গায় কপরা হয়েছে। যদিও এখনও আফগানিস্তান এই বিষয়ে মুখ খোলেনি বলেই তাদের পক্ষ থেকে দাবি।
তবে মাথায় রাখতে হবে, এই যুদ্ধতে আফগানিস্তানের উপর যেমন আক্রমণ হচ্ছে, তেমনই ছেড়ে কথা বলছে না তালিবানরাও। তারাও সময় পেলেই আক্রমণ করছে। দখল করে নিচ্ছে পাক সেনা ঘাঁটি। পাক সেনাকে মারছে। তাই এই যুদ্ধে যে আফগানরা পিছিয়ে যাবে না, সেটা বলাই বাহুল্য।