
ইরানে যুদ্ধ। আর ভুগছে পাকিস্তান। ঠিকই পড়ছেন। আসলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ। সেই কারণে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত পাকিস্তান।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে জ্বালানির নাম। এমনকী তেল সরবরাহ প্রক্রিয়াও ব্যাহত। যার ফলে জ্বালানি সংকটে ভুগছে পাকিস্তান। গাড়িতে তেল ভরতে গিয়েও সমস্যায় সেই দেশের সাধারণ মানুষ। তাই প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সরকার একধিক কড়া নিয়ম লাগু করেছে।
এক্ষেত্রে স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি অফিসকে তেল ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন শেহবাজ। সরকারের তরফে দাবি, তেল বাঁচিয়েই জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে তারা।
আর সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে যাতা অবস্থা পাকিস্তানে। সেখানে ২ সপ্তাহের জন্য বন্ধ করা হয়েছে স্কুল। শুধু তাই নয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়েও অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। এমনকী আধিকারিকদের ডিনার এবং ইফতার পার্টিও কমান হয়েছে। আর তাতেই ত্রাহী ত্রাহী রব উঠেছে।
খাবারের দাম বাড়ছে
মুদ্রাস্ফীতি ঠেকাতে একবারেই ব্যর্থ পাকিস্তান। আর সেটা আরও একবার সামনে চলে এল রমজানের সময়। সেই দেশের পঞ্জাব প্রদেশে ফল এবং সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, সরকার চেষ্টা করলেও খাবারের দামে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। উল্টে দাম বাড়ছে অনেকটাই।
যতদূর খবর, এক ডজন ভাল মানের কলার সরকারি দাম ২৪০ পাকিস্তানি টাকা। যদিও সেই দামে বিক্রি হচ্ছে না। দোকানিরা সেই ৩০০ পাকিস্তানি টাকায় বিক্রি করছে। ঠিক সেভাবেই খাতায় কলমে ১৪৫ পাকিস্তান টাকায় ১ কেজি পেয়ারা বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে খারাপ মানের পেয়ারার কেজিই ১৫০ পাকিস্তানি টাকা। এছাড়া দাম বেড়েছে বেদানারও। এটির সরকারি দাম হওয়ার কথা ৬৩০ টাকা প্রতি কিলো। তবে সেটাই এখন ৭০০ পাকিস্তানি টাকা প্রতি কিলোতে বিক্রি হচ্ছে। আবার দাম বেড়েছে আপেল, আদা সহ অন্যান্য খাবারেরও।
দাম বেড়েছে পেট্রোল এবং ডিজেলের
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরানের উপর হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল এবং আমেরিকা। আর তাতেই হরমুজ প্রণালী আটকে দিয়েছে ইরান। যার ফলে বিশ্ব বাজারে দাম বাড়তে শুরু করেছে পেট্রোল এবং ডিজেলের। আর তার প্রভাব পাকিস্তানেও পড়েছে। কারণ, ভারতের পড়শি দেশকেও তেল আমদানি করেই ঘর চালাতে হয়। যার ফলে সেখানেও দাম বাড়ছে। আর তাতেই বন্ধ হচ্ছে ইফতার পার্টি।