Advertisement

Pakistan Economy: চিকেন ৮৪০ টাকা, চাল ৩২০ টাকা কেজি! পাকিস্তানে রেকর্ড হারে মূল্যবৃদ্ধি

অর্থনৈতিক সঙ্কট যেন পিছুই ছাড়ছে না। ক্রমেই দেনা, মূল্যবৃদ্ধির চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে পাকিস্তানের অর্থনীতি।

Pakistan Economic Crisis: ক্রমেই বাড়ছে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক মন্দা।Pakistan Economic Crisis: ক্রমেই বাড়ছে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক মন্দা।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 11 Jan 2026,
  • अपडेटेड 7:37 PM IST
  • অর্থনৈতিক সঙ্কট যেন পিছুই ছাড়ছে না।
  • ক্রমেই দেনা, মূল্যবৃদ্ধির চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে পাকিস্তানের অর্থনীতি।
  • সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

অর্থনৈতিক সঙ্কট যেন পিছুই ছাড়ছে না। ক্রমেই দেনা, মূল্যবৃদ্ধির চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে বিশ্ব ব্যাঙ্ক, একের পর এক বন্ধুদেশের আর্থিক সাহায্য; সব কিছুর পরেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামে আগুন। তার জেরেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তানে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে হিসাব করা স্বল্পমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির হার টানা ২৩ সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী। চাল, গম, চিনি থেকে শুরু করে চিকেন ও ভোজ্য তেল; প্রায় সব কিছুর দামই লাগামছাড়া।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ৮ জানুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে সংবেদনশীল মূল্য সূচক বা এসপিআই-এর ভিত্তিতে হিসাব করা স্বল্পমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির হার বার্ষিক হিসেবে বেড়েছে ৩.২০ শতাংশ। গমের আটা, চিনি, চাল, চিকেন-সহ একাধিক পণ্যের খুচরো দামের বৃদ্ধি এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৩ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহেই এই সূচকে বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সপ্তাহের তুলনায় যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে গমের আটা। এক সপ্তাহেই এই পণ্যের দাম বেড়েছে ৫.০৭ শতাংশ। চিকেনের দাম বেড়েছে ২.৮৬ শতাংশ, রসুন ২.৪৪ শতাংশ, লঙ্কাগুঁড়ো ১.০১ শতাংশ। এছাড়াও এলপিজি-র দাম বেড়েছে ০.৮৮ শতাংশ, চা ০.৭৩ শতাংশ, চিনি ০.৫৮ শতাংশ, ব্রেড ০.৫১ শতাংশ, বাসমতী চাল ০.৪১ শতাংশ এবং জ্বালানি কাঠের দাম বেড়েছে ০.২৫ শতাংশ।

শুধু সাপ্তাহিক হিসাবেই নয়, বার্ষিক ভিত্তিতেও বহু পণ্যের দামে বড়সড় লাফ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এক বছরে গমের আটার দাম বেড়েছে ৩১.১২ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের জন্য গ্যাসের দাম বেড়েছে ২৯.৮৫ শতাংশ। লঙ্কাগুঁড়োর দাম বেড়েছে ১১.৪৩ শতাংশ, চিনি ১১.১৮ শতাংশ। কলা ও জ্বালানি কাঠের দাম বেড়েছে ১০.৫৭ শতাংশ, গুড় ১০.৫০ শতাংশ, পাউডার দুধ ৯.৫১ শতাংশ এবং ডিমের দাম বেড়েছে ৮.০৩ শতাংশ। ৮ জানুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, যদিও ২২টি পণ্যের দাম অপরিবর্তিত ছিল।

Advertisement

এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের খাবারের পাতে। মূল্যবৃদ্ধির চাপে চিকেন ও চালের মতো মৌলিক খাদ্যসামগ্রীও ক্রমশ নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। লিভিংকস্ট ডট অর্গ-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে বর্তমানে ১ কিলোগ্রাম চিকেন ব্রেস্টের দাম ২.৯৯ ডলার, যা পাক মুদ্রায় প্রায় ৮৪০ টাকা। একই সঙ্গে ১ কিলোগ্রাম চালের দাম ১.১২ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩২০ পাক রুপি।

অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও কম নয়। ১ লিটার দুধের দাম ০.৭৮ ডলার বা প্রায় ২১৯ পাক রুপি। ৫০০ গ্রাম ব্রেডের প্যাকেটের দাম ১৬৩ পাক রুপি। ১২টি ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩১৭ পাক রুপি। টম্যাটোর দাম কিলোপ্রতি ১৪০ রুপি, আলু ৯৫ রুপি এবং পেঁয়াজের দাম পৌঁছেছে কিলোপ্রতি ১২১ পাক রুপিতে।

ফলের ক্ষেত্রেও একই ছবি। ১ কিলোগ্রাম আপেলের দাম প্রায় ৩০০ পাক রুপি। কলা কিনতে গেলে কিলোপ্রতি খরচ হচ্ছে ১৭৪ পাক রুপি। কমলালেবুর দাম কিলোপ্রতি প্রায় ২২২ পাক রুপি। যদিও এই দামগুলি সংশ্লিষ্ট ফুড প্রাইস ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে এবং এতে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, টানা ২৩ সপ্তাহ ধরে চলা এই মূল্যবৃদ্ধি পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও চাপে ফেলছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সত্ত্বেও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে রাশ টানার কোনও ইঙ্গিত আপাতত মিলছে না বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

Read more!
Advertisement
Advertisement