
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতি সঙ্কটে পড়েছে। সেখানে মুদ্রাস্ফীতি ও তেলের দাম তীব্র ভাবে বেড়েছে। এদিকে, IMF পাকিস্তানকে আরও একটি ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবার পাকিস্তান ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে পারে।
IMF শুক্রবার ঘোষণা করেছে, একটি ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং ইসলামাবাদের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিটিকে ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এর অনুমোদন এখনও মেলেনি।
এই চুক্তিটি এখনও IMF বোর্ডের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদিত হলে, পাকিস্তান এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফেসিলিটির অধীনে ১ বিলিয়ন ডলার এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফেসিলিটির অধীনে ২১০ মিলিয়ন ডলার পাবে। এর ফলে বর্তমান কর্মসূচির অধীনে মোট ছাড় পাওয়া অর্থের পরিমাণ ৪.৫ বিলিয়ন ডলার হবে। এর অর্থ হল, পাকিস্তান ইতিমধ্যেই IMF থেকে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেয়েছে।
পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি আগে থেকেই প্রকট। কিন্তু এখন ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের মুদ্রাস্ফীতির হার জানুয়ারির ৫.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্কের অনুমান অনুযায়ী, ২০২৬ সালেও মুদ্রাস্ফীতি ৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। খাদ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যই এই মুদ্রাস্ফীতির প্রধান কারণ।
পাকিস্তানের অর্থনীতি উন্নয়নশীল বিশ্বের মানদণ্ডের নীচে নেমে গিয়েছে। পাকিস্তান টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে। কখনও বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে, কখনও IMF-এর কাছে ঋণ চাইছে। এখন IMF তাদের একটি ঋণ মঞ্জুর করতে চলেছে। IMF-এর মতে, ২০২৬ সালে পাকিস্তানের GDP-র বৃদ্ধি প্রায় ৩.৬ শতাংশ হে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। পাকিস্তানেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। পেট্রোলের দাম বেড়ে প্রতি লিটারে প্রায় ৩২১ পাকিস্তানি মুদ্রা এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ৩৩৫ রুপিতে পৌঁছয়।