
সামরিক শক্তির নিরিখে আরও পিছিয়ে পড়ল পাকিস্তান। আগের তুলনায় আরও ২ ব়্যাঙ্ক কমে ১২ থেকে ১৪তে নামল ইসলামাবাদ। সম্প্রতি গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ব়্যাঙ্কিং প্রকাশিত হয়। সেখানে বিশ্বের ১৪৫টি দেশের সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বিচার করা হয়। আর তাতেই বড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান। বিশ্লেষকরা বলছেন, 'অপারেশন সিঁদুর'-এ মুখ পুড়েছে ইসলামাবাদের। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এই সামরিক মূল্যায়নেও।
৬০টিরও বেশি সূচকের উপর ভিত্তি করে গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের এই র্যাঙ্কিং তৈরি হয়। সেনা জওয়ানের সংখ্যা, অস্ত্রভাণ্ডার, ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান, নৌবাহিনী, প্রতিরক্ষা বাজেট, ভৌগোলিক অবস্থান এবং লজিস্টিক ক্ষমতা; সব কিছুই বিবেচনা করা হয়। 'পাওয়ার ইনডেক্স' স্কোর যত কম, সামরিক শক্তি তত বেশি ধরা হয়।
২০২৬ সালের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। আকাশ ও নৌবাহিনীর দিক থেকে এখনও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনা তাদেরই। ইউক্রেন যুদ্ধ চললেও আপাতত দ্বিতীয় স্থানই ধরে রেখেছে রাশিয়া। তবে দ্রুত আধুনিকীকরণ ও শক্তিশালী নৌবাহিনীর জেরে তৃতীয় স্থানে রয়েছে চিন। চতুর্থ স্থানেই রয়েছে ভারত। বড় সেনাবাহিনী, শক্তিশালী মিসাইল, রাফাল যুদ্ধবিমান ও এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জোরে বিশ্বের শীর্ষ চারে নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে নয়াদিল্লি। এরপর রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক এবং ইতালি।
পাকিস্তানের র্যাঙ্কিং ভরাডুবির নেপথ্যে বড় কারণ 'অপারেশন সিঁদুর। ২০২৫-এর মে-তে কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার পর ভারত পাল্টা প্রত্যাঘাত শুরু করে। পাকিস্তানের ভিতরে মিসাইল ও এয়ার স্ট্রাইক চালানো হয়। চার দিনের সংঘর্ষেই এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ভারত আকাশ দিয়ে প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানের তুলনায় বহুগুণ এগিয়ে। পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স ও সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষবিরতির আর্জি জানাতে বাধ্য হয় পাকিস্তান।
এই পরাজয়ের পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারই জেরে র্যাঙ্কিংয়ে তারা পিছিয়ে পড়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। সেই জায়গায় উঠে এসেছে জার্মানি।
উল্লেখ্য, এই বিশ্লেষণে পরমাণু অস্ত্র কার কত বেশি, সেটা ধরা হয়নি। সেটি বিশ্লেষণ করলে কি ব়্যাঙ্কিং পাল্টাতে পারে? এই বিষয়ে আপনার মতামত জানান কমেন্টে।