Advertisement

Russia China Iran: রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে সমুদ্রে মহড়া ইরানের, যুদ্ধের প্রস্তুতি?

রাশিয়া, চিন ও ইরান। এই তিন দেশের মধ্যে কি ক্রমেই বন্ধুত্ব বাড়ছে? বিশ্লেষকরা অন্তত এমনটাই মনে করছেন। সেই ধারণায় যেন শিলমোহর দিল ৩ দেশ। BRICS Plus এর আওতায় এক সপ্তাহব্যাপী যৌথ নৌসেনা মহড়া শুরু করেছে এই তিন দেশ।

এক সপ্তাহব্যাপী যৌথ নৌসেনা মহড়া শুরু করেছে এই তিন দেশ। এক সপ্তাহব্যাপী যৌথ নৌসেনা মহড়া শুরু করেছে এই তিন দেশ।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 10 Jan 2026,
  • अपडेटेड 8:24 PM IST
  • এক সপ্তাহব্যাপী যৌথ নৌসেনা মহড়া শুরু করেছে এই তিন দেশ।
  • এই যৌথ নৌ মহড়া হচ্ছে ‘উইল ফর পিস ২০২৬’-এর অধীনে।
  • তবে দেশের অভ্যন্তরেই এই নৌ মহড়া ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

রাশিয়া, চিন ও ইরান। এই তিন দেশের মধ্যে কি ক্রমেই বন্ধুত্ব বাড়ছে? এতদিন এমনটাই মনে করছিলেন বিশ্লেষকরা। এবার সেই ধারণাতেই যেন শিলমোহর দিল ৩ দেশ। BRICS Plus এর আওতায় এক সপ্তাহব্যাপী যৌথ নৌসেনা মহড়া শুরু করেছে এই তিন দেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার তরফে এই মহড়াকে সামুদ্রিক বাণিজ্য ও শিপিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুশীলন বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমান টানাপড়েনের আবহে, এই মহড়ার গুরুত্ব তার চেয়েও অনেক বেশি, বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।

এই নৌ মহড়া শুরু হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন আমেরিকা ও পশ্চিমী দেশগুলির সঙ্গে BRICS Plus এর একাধিক সদস্য দেশের সম্পর্কের মধ্যে স্পষ্ট টানাপড়েন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। BRICS Plus মূল BRICS জোটেরই বিস্তৃত রূপ। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি এখন এই জোটে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মিশর, ইন্দোনেশিয়া ও ইথিওপিয়ার মতো দেশও রয়েছে।  

দক্ষিণ আফ্রিকার সেনাবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই যৌথ নৌ মহড়া হচ্ছে ‘উইল ফর পিস ২০২৬’-এর অধীনে। মহড়ার মূল লক্ষ্য সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা, যৌথ অপারেশনে পারস্পরিক দক্ষতা বাড়ানো এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চিনা সামরিক কর্তারা জানান, ব্রাজিল, মিশর এবং ইথিওপিয়া এই মহড়ায় পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সেনার দাবি, BRICS Plus-এর সমস্ত সদস্য দেশকেই এই মহড়ায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

তবে দেশের অভ্যন্তরেই এই নৌ মহড়া ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। দক্ষিণ আফ্রিকার শাসক জোটের শরিক, প্রো-ওয়েস্টার্ন ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স এই উদ্যোগকে দেশের ঘোষিত নিরপেক্ষ নীতির পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছে। ওই দলের অভিযোগ, BRICS-এর মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বৈশ্বিক শক্তি সংঘর্ষে একপ্রকার দাবার ঘুঁটির মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সেনার যৌথ অভিযানের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ম্ফো মাথেবুলা। তাঁর বক্তব্য, এই মহড়ার কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, কিংবা এটি কোনওভাবেই আমেরিকা-বিরোধী উদ্যোগ নয়। তিনি এটাও স্মরণ করিয়ে দেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকা অতীতেও বিভিন্ন সময়ে মার্কিন নৌসেনার সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছে।

Advertisement

তা সত্ত্বেও, পরিস্থিতিকে হালকা করে দেখছেন না আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই BRICS দেশগুলির বিরুদ্ধে ‘অ্যান্টি-আমেরিকান’ এজেন্ডা চালানোর অভিযোগ তুলেছিলেন। তার সঙ্গে ট্যারিফ আরোপের হুমকিও রয়েছে। এই আবহেই রাশিয়া, চিন ও ইরানের যৌথ নৌ মহড়া বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

এটা কি শুধুই একটি নিয়মিত সামুদ্রিক নিরাপত্তা অনুশীলন, নাকি সমুদ্রে শক্তির ভারসাম্যে বদলের ইঙ্গিত? BRICS Plus ক্রমশ যে একটি বিকল্প শক্তিকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, এই মহড়া সেই বার্তাই আরও জোরালো করছে বলে মত অনেকের। তবে এর প্রকৃত প্রভাব ও তাৎপর্য কতটা গভীর, তা সময়ের সঙ্গেই স্পষ্ট হবে ।  

Read more!
Advertisement
Advertisement