
দিন কয়েক আগে রাজ্যবাসীকে বেশি করে সন্তান নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি বলেছিলেন, দেশে জন্মহার ২.১। সেখানে অন্ধ্রে ১.৬। এই হারে চলতে থাকলে ২০৪৭ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে বুড়ো মানুষের সংখ্যা বেশি হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন,শীঘ্রই একটি নতুন আইন আনবে সরকার। তাতে নিশ্চিত করা হবে স্থানীয় নির্বাচনে তাঁরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন, যাঁদের দুই বা তার বেশি সন্তান রয়েছে। চন্দ্রবাবু নাইডুর পর তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনও একই কথা বলেছেন। এ কথাও বলেছেন, ১৬-১৬টি সন্তান নেওয়া উচিত নতুন দম্পতিদের।
অধিক সংখ্যক সন্তান নেওয়ার এই আবেদন শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চিন আটের দশকে 'এক সন্তান নীতি' প্রয়োগ করেছিল। এর ফলে জনসংখ্যা থেমে গেলেও বয়স্ক জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে 'দুই সন্তান' এবং 'তিন সন্তান' নীতি আনতে একপ্রকার বাধ্য হয় বেজিং। গত বছর চিন একটি নতুন পরিকল্পনা এনেছে। যার লক্ষ্য সন্তান ধারণ উৎসাহিত করা। এখন বিশ্বের একাধিক দেশেই প্রবীণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নিম্নগামী প্রজনন হার বাড়ানোর জন্য নানা পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়ায় 'কর্মক্ষেত্রে যৌনতা'র প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবে, অফিসে লাঞ্চ বা কফি বিরতির সময় মানুষ যৌন মিলন করতে পারবেন। এতে সন্তান আসবে কোলে।
ক্রমহ্রাসমান প্রজনন হার বাড়াতে রাশিয়া এখন 'যৌন মন্ত্রক' গঠনের কথা ভাবছে। একটি 'যৌন দফতর' খোলার প্রস্তাব ভেবে দেখছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিনা ওস্তানিয়া।
শুধু তাই নয়, জাপানে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নাওকি হায়াকুতা এক অদ্ভুত প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, মেয়েদের ২৫ বছর বয়সের পরে বিয়ে নিষিদ্ধ করা উচিৎ। ৩০ বছর বয়সের পরে তাঁদের জরায়ু জোর করে কেটে দেওয়া উচিত। বিতর্কের জেরে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। তাঁর যুক্তি, এই পদক্ষেপে মহিলারা তাড়াতাড়ি সন্তান ধারণে উৎসাহিত হবেন। বাড়বে জন্মহার।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির উপর জোর কেন?
পাঁচ দশক আগে পল এলরিচ নিজের বইয়ে 'জনসংখ্যা বিস্ফোরণ' উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন,একদিন জনসংখ্যা এতটা বেড়ে যাবে যে মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যাবে। পৃথিবী 'মৃত গ্রহে' পরিণত হবে। এই বইটি উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল বিশ্বকে। কিন্তু এখন ঠিক তার উল্টো। দুই বছর আগে ইলন মাস্ক বলেছিলেন,'ভবিষ্যতে জন্মহার কমে যাওয়া বিশ্ব উষ্ণায়ণের চেয়েও বড় সমস্যার। তিনি মানুষকে আরও বেশি করে সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমহ্রাসমান জন্মহার নিয়ে উদ্বেগে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ। এর ফলে বাড়ছে বয়স্ক জনসংখ্যা। চলতি বছরের জুলাই মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের একটি প্রতিবেদন বলছে, ১৯৯০ সালের তুলনায় এখন নারীরা কম সন্তান ধারণ করছে। ২০৮০ সাল নাগাদ পৃথিবীতে মানুষের জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন অতিক্রম করবে। তার পরেই কমতে শুরু করবে।
চলতি বছরের মার্চে সায়েন্স জার্নাল ল্যানসেটে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। এই গবেষণাটি করেছে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি। এতে ১৯৫০ থেকে ২০২১1 সাল পর্যন্ত ২০৪টি দেশের জন্মহার বিশ্লেষণ করা হয়। বলা হয়েছে,আমরা এমন এক বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি যেখানে প্রজনন হার অনেক কম হবে। এই সমীক্ষায় অনুমান করা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশ দেশ থাকবে যেখানে জন্মহার গড়ের নিচে থাকবে। ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৯৭% দেশই এই শ্রেণিতে চলে আসবে।