
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দাবি করছেন, গত বছর ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের পর থেকে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের চাহিদা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, বেশ কয়েকটি দেশ এখন পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কেনার জন্য সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে। সরকারি রেডিও পাকিস্তানের দাবি, বুধবার ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে অনেক দেশ এই বিমানগুলি অর্জনের জন্য 'আমাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কথা বলছে'। তিনি আরও বলেন, এটি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা শক্তিশালী করবে এবং অর্থনীতিকে লাভবান করবে।
JF-17 থান্ডার জেট নিয়ে আলোচনা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কোন ধরণের বিমান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি, তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে, প্রাথমিকভাবে JF-17 থান্ডার যুদ্ধবিমানের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই জেটটি পাকিস্তান এবং চিন যৌথভাবে তৈরি করেছে এবং পাকিস্তানে উৎপাদিত হয়। বেশ কয়েকটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে সুদান, লিবিয়া, সৌদি আরব, ইরাক, ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলি JF-17 কেনার জন্য আলোচনা করছে। কিছু দেশ মুশশাক প্রট্রেনিং এয়ারক্রাফটের প্রতিও আগ্রহ দেখাচ্ছে।
কোন দেশগুলি আগ্রহী?
যদিও প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে দেশগুলোর নাম বলেননি, স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এবং প্রতিরক্ষা সূত্র অনুসারে, নিম্নলিখিত দেশগুলির সাথে আলোচনা এগিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ইরাক, সুদান এবং লিবিয়া।
সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি: রিপোর্ট অনুসারে, পাকিস্তান এবং সৌদি আরব ২ বিলিয়ন ডলারের সৌদি ঋণকে JF-17 যুদ্ধবিমান চুক্তিতে রূপান্তরিত করার বিষয়ে আলোচনা করছে।
ইন্দোনেশিয়া: ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করেছেন এবং ৪০টিরও বেশি JF-17 জেট এবং 'শাহপার' ড্রোনের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অন্যান্য বিমান: যুদ্ধবিমান ছাড়াও, মুশশাক ট্রেনিং এয়ারক্রাফ্ট এবং 'তাইমুর' সিস্টেমের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুধুমাত্র 'বন্ধু' দেশগুলিই পাবে
পাকিস্তান সরকার তার প্রতিরক্ষা রফতানি নীতির উপর কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রিতরক্ষা উৎপাদন মন্ত্রী রাজা হায়াত হারাজ জানিয়েছেন, JF-17 কেবলমাত্র 'বন্ধু দেশগুলির' কাছে বিক্রি করা হবে যারা পাকিস্তানের স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে না। পাকিস্তান আশা করে যে এই রফতানি সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে তার দুর্বল অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে এবং IMF ঋণের উপর নির্ভরতা কমাবে।
ভারত JF-17 থান্ডার জেট ভূপতিত করেছিল
এপ্রিল মাসে, পাকিস্তান-মদদপুষ্ট জঙ্গিরা পহেলগাঁও আক্রমণ করে, যাতে ২৬ জন অসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। ভারত অপারেশন সিঁদুর দিয়ে এর জবাব দেয়, বেশ কয়েকটি জঙ্গি শিবির ধ্বংস করা হয়। ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং গত নভেম্বরে বলেছিলেন যে অভিযানের সময় কমপক্ষে ৫টি পাকিস্তানি উচ্চ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপতিত করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি JF-17-ও রয়েছে। যদিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ JF-17 -এর প্রশংসা করে এই সংঘর্ষকে পাকিস্তানের 'সাফল্য' বলে দাবি করেছেন।