
Trump Modi call Iran war: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইরানে হামলার পর থেকে এই প্রথমবার তাঁদের ফোনে কথা হল। বলাই বাহুল্য, আলোচনার মূল বিষয়ই ছিল ইরান-ইজরায়েল পরিস্থিতি। হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন 'দুই বন্ধু'। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই ফোনালাপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত কূটনৈতিক মহলের।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর পুরো বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান। বলেন, 'দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা কতটা জরুরি, তা নিয়েও মতবিনিময় হয়।'
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই উত্তেজনা চরমে। এই সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। পাশাপাশি, ইরানের একাধিক সামরিক ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতার মৃত্যুর ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষিতেই হরমুজ প্রণালী চলে আসে সংবাদের শিরোনামে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেলই এই প্রণালী দিয়ে পাস করে। যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকে ইরান কার্যত এই পথ বন্ধ করে রেখেছে বলে খবর। ফলে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। দাম বাড়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারতের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ক্রুড অয়েল আমদানিকারী দেশ। ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, সোমবার এই বিষয়ে সংসদেও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনওরকম বাধা বা হামলা কোনওমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর মোদী নিজেও সে বিষয়ে জানান। বলেন, 'পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত উত্তেজনা কমানো এবং দ্রুত শান্তি ফেরানোর পক্ষে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী খোলা, নিরাপদ ও সহজলভ্য রাখা গোটা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত জরুরি।'
উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, এর আগেই মোদী ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন। ভারতীয় জাহাজ যাতে সেখান দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। কিছু ভারতীয় ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই হরমুজ হয়ে ভারতে এসে পৌঁছেও গিয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ন্যাটো দেশগুলিকে হরমুজ প্রণালী রক্ষায় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও ইউরোপের বহু দেশ এবং চিন এই বিষয়ে বিশেষ সাড়া দেয়নি। ফলে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের এক মাস পার হতে চললে। এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এই ফোনালাপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিই বিশ্ব অর্থনীতির গতি এবং তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।