
Maduro Arrest US Surgical Strike:ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের গোপন সামরিক অভিযানের খুঁটিনাটি প্রথমবার প্রকাশ্যে আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে আমেরিকা “খুব শক্তভাবে” যুক্ত হতে চলেছে।
শনিবার ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি সংস্থাগুলি ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেবে। তাঁর দাবি, এই অভিযান শুধু সামরিক সাফল্য নয়, কৌশলগত দিক থেকেও আমেরিকার আধিপত্য প্রমাণ করেছে।
‘অসাধারণ কাজ করেছে আমাদের বাহিনী’
মাদুরোকে ধরার অভিযানের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের টিম অসাধারণ কাজ করেছে। পৃথিবীর আর কোনও দেশ এমন অপারেশন চালাতে পারত না।” তিনি জানান, পুরো অভিযান তিনি রিয়েল টাইমে দেখেছেন এবং প্রতিটি মুহূর্তে নজর রেখেছিলেন। তাঁর কথায়, এই অপারেশন ছিল “পেশাদার নেতৃত্ব, সামরিক দক্ষতা ও অসীম সাহসের নিখুঁত উদাহরণ।”
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তান পর্বে আমেরিকা বিশ্বজুড়ে উপহাসের বিষয় হয়ে উঠেছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। “এখন আর আমেরিকা মজা নয়”, এভাবেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। ট্রাম্প আরও বলেন, সেনাদের সাহস ও পেশাদারিত্ব দেখে তাদের থামানোই কঠিন হয়ে গিয়েছিল।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ সরকারে আমেরিকার ভূমিকা?
ভেনেজুয়েলায় পরবর্তী সরকার কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান ট্রাম্প। তাঁর কথায়, আমেরিকা কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না। ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তিনি বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
তেল শিল্প প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, আমেরিকার তেল সংস্থাগুলি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও দক্ষ, এবং তারা ভেনেজুয়েলার তেল সেক্টরে গভীরভাবে যুক্ত হবে।
অভিযানে কেউ নিহত নয়
ভেনেজুয়েলায় চালানো এই অভিযানে কিছু মার্কিন সেনা আহত হলেও কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানান ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসর্টে নিজের ঘরের স্ক্রিনে তিনি পুরো অভিযান লাইভ দেখেছেন, “ঠিক যেন কোনও টিভি শো।” এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মার্কিন সেনাবাহিনীর পেশাদার দক্ষতায় মুগ্ধ করেছে বলেও জানান তিনি।
অপারেশনের ভিতরের কথা
ট্রাম্প জানান, অভিযানে ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ করেছে। তাঁর দাবি, এটি ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটিতে চালানো অভিযানের সমতুল্য। মার্কিন বাহিনী স্টিলের ব্যারিকেড ভেঙে ভিতরে ঢোকে। একটি হেলিকপ্টার গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনও বিমান ভেঙে পড়েনি। মাদুরো একটি কড়া নিরাপত্তা ঘেরা দুর্গে লুকিয়ে ছিলেন, স্টিলের দরজা ও পালানোর নিরাপদ পথ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ঘিরে ফেলে গ্রেফতার করে মার্কিন বাহিনী।
‘মেক্সিকোকে বার্তা দেওয়ার জন্য নয়’
এই অভিযান মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টকে কোনও বার্তা দেওয়ার জন্য নয় বলে স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, মেক্সিকোর সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক ভালো এবং তারা ড্রাগ কার্টেল নিয়ে আতঙ্কিত। ট্রাম্প বলেন, চার দিন আগেই এই অভিযান হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তা পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত গত রাতে পরিস্থিতি অনুকূল হওয়ায় অভিযান চালানো হয়।
প্রয়োজনে দ্বিতীয় স্ট্রাইকও প্রস্তুত
ট্রাম্পের দাবি, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাদুরো তাঁর সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি রাজি হননি। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর প্রতি আনুগত্য অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং অনেক নেতাই তাঁর পাশ ছেড়েছেন।
প্রয়োজনে দ্বিতীয় স্ট্রাইকের জন্যও আমেরিকা প্রস্তুত ছিল, যদিও তার প্রয়োজন পড়বে না বলেই মনে করছেন ট্রাম্প। তিনি এই অভিযানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “এটি ছিল একটি সার্জিক্যাল অপারেশন, প্রাণ বাঁচানো এবং বিশ্বকে বার্তা দেওয়া যে আমেরিকাকে চেপে ধরা যায় না।”
মাদুরোকে “অপ্রিয় একনায়ক” বলে আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, এখন দেখার বিষয় ভেনেজুয়েলার উপ-রাষ্ট্রপতি কী পদক্ষেপ নেন। চিনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মাদুরোর বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আসন্ন সাংবাদিক সম্মেলনে আরও তথ্য জানানো হবে। সেখানে জেনারেল কেন ও পিট হেগসেথও উপস্থিত থাকবেন। শেষে ট্রাম্প বলেন, “আমি একজন আমেরিকান হতে পেরে গর্বিত।”