
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আবার নয়া মোড়। যুদ্ধবিরতির আশার মাঝেই আবার সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সূত্রে খবর, হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য ইউএস-এর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে চাইছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। সেই মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। আর এই দাবি সত্যি হলে, গালফ অঞ্চলের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ইউএই।
প্রসঙ্গত, আমেরিকার সময়ে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে বিরাট দাবি করেছেন। আগামী ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে সামরিক অভিযান শেষ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কাছে হরমুজ খোলা যে প্রধান প্রায়োরিটি নয়, সেটাও জানিয়েছেন। আর তাতেই যুদ্ধ বন্ধ হবে বলে আশা দেখা যাচ্ছিল। যদিও আজই পরিস্থিতির উলট পুরাণ।
ইতিমধ্যেই ইউএই জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধে অংশ নিতে চায়। হরমুজ খোলাই তাদের লক্ষ্য। এখন দেখার আবার যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নেয় কি না। যদিও আমেরিকার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কিছুই জানান হয়নি।
ইউএই একাধিক পর্যায়ে কাজ করছে
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইউএই একাধিক পর্যায়ে কাজ করছে। তারা ইউনাইটেড নেশনস সিকিউরিটি কাউন্সিলের সঙ্গেও কাজ করছে এই সমস্যা সমাধানে। এমন পরিস্থিতিতে ইউএই আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার অন্যান্য মিলিটারি শক্তিকে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে হরমুজ খোলার আহ্বান জানাচ্ছে।
আসলে হরমুজ প্রণালী খুবই জরুরি একটা সমুদ্র পথ। এই সমুদ্র পথ দিয়েই ইউএই-এরও প্রচুর পরিমাণ গ্যাস, তেল রফতানি করে। তাই তারা এই সমুদ্র পথ খুলে দিতে চাইছে বলে খবর।
এই রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউএই-এর অফিসাররা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে। তারা চাইছে নিজেদের সঙ্গে সারা পৃথিবীর অর্থনীতিকে নিয়ে ডুবতে। তাই তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথকে বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি তাদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তেহরানকে আর বেশি পাত্তা দেওয়া হবে না। ইউএই-এর তেল এবং গ্যাসের ঘাঁটিতে হামলা চালালে আর সহ্য করা হবে না। বরং প্রত্যুত্তর দেওয়া হবে।
এমন পরিস্থিতিতে কাজে লেগে পড়েছেন ইউএই-এর অফিসাররা। তারা বুঝতে চাইছেন, ঠিক কীভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে তারা জায়গা করে নিতে পারে। বিশেষত, ইরানকে হরমুজ থেকে উৎখাত করার জন্যই তারা বেশি উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন।