
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত Ashmolean Museum-এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে নিয়েছে। তারা ১৬ শতকের একটি ব্রোঞ্জ মূর্তি ভারতকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এই মূর্তিটি তামিলনাড়ুর একটি মন্দিরে পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আদতে এই মূর্তিটি এই মন্দিরেই।
সন্ত থিরুমানকাই আলভার-এর এই পবিত্র মূর্তিটি ১৯৬৭ সালে একটি নিলাম থেকে জাদুঘরটি সংগ্রহ করেছিল। তবে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে এক স্বাধীন গবেষক জানান যে মূর্তিটির আসল উৎস তামিলনাড়ুর থাডিকোম্বু এলাকার শ্রী সুন্দররাজা পেরুলাম মন্দিরের। তারপরই শুরু হয়ে যায় জল্পনা।
এরপর জাদুঘর কর্তৃপক্ষ লন্ডনে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের পক্ষ থেকে মূর্তিটির উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। সেখান থেকে তারা জানতে পারে যে মূর্তিটি আদতে তামিলনাড়ুর এই মন্দিরেরই। আর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইন্ডিয়া হাউসে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মূর্তিটি ভারতের হাতে হস্তান্তর করে দিল লন্ডনের মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ।
এই জাদুঘরের ডিরেক্টর ড: জা স্টার্জিস বলেন, 'এটি অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত।' তাঁর আরও বক্তব্য, 'পাঁচ বছর আগে যখন জানা যায় যে মূর্তিটির ছবি তামিলনাড়ুর মন্দিরে তোলা হয়েছিল, তখনই পরিষ্কার হয়ে যায় যে বৈধভাবে এটি ভারত ছাড়েনি। কিন্তু ১৯৬৭ সালে সৎ উদ্দেশ্যেই এটি কিনেছিল জাদুঘর। তবুও ভারতীয় হাই কমিশনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এটি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।'
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই মূর্তিটি মন্দির থেকে চুরি করা হয়। তারপর সেই জায়গায় একটি প্রতিরূপ বসানো হয়েছিল। পরে জাদুঘরের বিশেষজ্ঞরা ভারতে এসে Archaeological Survey of India (এএসআই), তামিলনাড়ু সরকার এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে এর উৎস নিশ্চিত করেন। তারপরই মূর্তি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই প্রসঙ্গে UK-এর ভারতের হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, 'এই প্রক্রিয়ায় মূর্তিটির উৎস প্রমাণ করাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।' তিনি অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামের আন্তরিকতা ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
যদিও এখনও ভারতে এই মূর্তি আসেনি। ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অনুমোদন এবং হাই কমিশনের স্বাক্ষরের পর মূর্তিটি ভারতে পাঠানো হবে। এরপর এএসআই পরীক্ষা করার পর তামিলনাড়ু সরকারের সহায়তায় এটি পুনরায় মন্দিরে স্থাপন করবে।
হাউস অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস থাঙ্গাম ডেবোনেয়ার বলেন, 'এটি শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং একটি জীবন্ত মন্দিরের পবিত্র প্রতীক—এটাই এর বিশেষত্ব।'
এই অনুষ্ঠানে আরও চারটি প্রাচীন ভারতীয় নিদর্শনও হস্তান্তর করা হয়। ওই নিদর্শনও চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের Homeland Security Investigations (এইচএসআই), লন্ডনের Metropolitan Police-এর আর্ট অ্যান্ড অ্যান্টিকস ইউনিট এবং ভারতের রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তরের সহায়তায় সেগুলো উদ্ধার করা হয়।
ফেরত দেওয়া নিদর্শনের মধ্যে ছিল ‘Seated Ganesha with Parasol’, ‘Dancing Ganesha’, ‘Dancing Child Saint Sambandar/Bal Krishna’ এবং একটি ‘Pedestal’। আর এই সব নিদর্শন দেশে ফিরে আসায় স্বভাবতই খুশি ভারত।