
ইরানে যুদ্ধ চলছে। আর এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকা এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে কোরিয়ান পেনিনসুলা নিয়ে উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমেরিকা ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ফ্রিডম শিল্ড নামক একটি সামরিক অনুশীলন শুরু করতে চলেছে। সোমবার থেকে শুরু হতে চলা এই অনুশীলনে অংশ নেবে হাজার হাজার সেনা। আর এটা আজ শুরু হয়ে ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে বলে খবর।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জানিয়েছেন যে এতে অংশগ্রহণ করতে পারেন ১৮০০০-এর বেশি সেনা। তারা ফ্রেইডাল শিল্ডে অংশগ্রহণ করবে। এটি শুরু হবে আজ। চলবে ১৯ মার্চ পর্যন্ত। যদিও আমেরিকার তরফ থেকে এখনও সেনা সংখ্যা জানান হয়নি।
কেন এই অনুশীলন?
ইরান যুদ্ধের মাঝেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক অনুশীলন করতে চলেছে আমেরিকা। আর এই ঘটনা ঘিরেই সারা পৃথিবীতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক মিডিয়া জানাচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এই অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিজেদের মিলিটারি অ্যাসেট মজুত করছে। এর মাধ্যমেই তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায়।
যদিও কোরিয়ায় থাকা আমেরিকার ফোর্সের তরফে জানান হয়েছে যে এই সব বিষয়ে তারা এখনই কোনও কথা বলবে না। এমনকী দক্ষিণ কোরিয়ার তরফেও এই বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি।
উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ
এই বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যেই নিজেদের আপত্তি জানাতে শুরু করে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। কিম জং উনের দেশের মতে, এই ধরনের যৌথ মহড়া বা অনুশীলন আদতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে।
এই প্রসঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সর্বময় নেতা কিম জং উন গত মাসেই প্যাংগংয়ের একটি সামিটের সময় সিওল নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দেন। তিনি জানান যে সিওল নিয়ে তাঁরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা বলতে রাজি। তবে তার আগে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আমেরিকার তরফে যে পূর্বশর্ত দেওয়া হয়েছে, সেটা তুলে নিতে হবে।
পরমাণু নিয়ে আলাপ আলোচনা ব্যর্থ
মাথায় রাখতে হবে যে, উত্তর কোরিয়া ওয়াশিংটন এবং সিওলের সঙ্গে সব ধরনের কথা বন্ধ করে দিয়েছে ২০১৯ সাল থেকে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় কিম জং উন তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু তাতে ফলপ্রসূ কিছু বেরয়নি। বরং সমস্যা বাড়তে থাকে।
ও দিকে ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কিম সুযোগ নিতে থাকেন। তিনি রাশিয়ার কাছাকাছি আসেন। এমনকী নিজেদের পরমাণু ক্ষমতা বাড়ানোর কাজে লেগে পড়েন। যদিও এখন আবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ মহড়ায় আমেরিকা। তাতেই উত্তাপ বাড়ছে।