ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধিকাংশ ট্যারিফই আইনবিরুদ্ধ। শুক্রবার এমনটাই জানাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আপিল আদালত। মার্কিন বিচারব্যবস্থায় এই আপিল আদালত (appeals court) একটি উচ্চ আদালত। এটি নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা করে। এই আদালতের মূল কাজ হল, কোনও আইনের সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা বা কোনও পদ্ধতিগত ত্রুটি আছে কিনা তা যাচাই করা। সেই আপিল আদালতই শুক্রবার ট্রাম্পের বেশিরভাগ ট্যারিফ আরোপই আইনবিরুদ্ধ বলে জানিয়েছে। তবে এত কিছুর পরও পিছু হঠতে নারাজ ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগের মতোই সমস্ত ট্যারিফই বহাল থাকবে। এমনকি এই রায়কে তিনি 'ভুল' বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
শুক্রবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, 'ALL TARIFFS ARE STILL IN EFFECT! আজ একদল পক্ষপাতদুষ্ট আপিল আদালত বলেছে যে, আমাদের নাকি ট্যারিফ তুলে দেওয়া উচিত। কিন্তু ওরাও জানে যে, শেষ পর্যন্ত আমেরিকার জয় হবে।'
ট্যারিফ ইস্যুতে ট্রাম্পের সাফাই
এই রায়ের পরেই এক দীর্ঘ ব্যাখামূলক পোস্ট করেন ট্রাম্প। বলেন, মার্কিন শ্রমিক ও ইন্ডাস্ট্রির জন্য এই ট্যারিফ অপরিহার্য।
'এই ট্যারিফ যদি কখনও তুলে নেওয়া হয়, তাহলে দেশে বিপর্যয়ের পরিস্থিতি তৈরি হবে,' বলেন তিনি। 'আমাদের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে,' দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
তিনি আরও বলেন, 'ট্রেড ডেফিসিট ও অন্য দেশগুলির অন্যায্য শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে লড়তে এই ট্যারিফই একমাত্র অস্ত্র।'
তিনি বলেন, 'USA আর বিশাল ট্রেড ডেফিসিট মুখ বুজে মেনে নেবে না। বন্ধু হোক বা শত্রু, কোনও দেশকেই অন্যায্য শুল্ক বা বাধা সৃষ্টি করার কোনও সুযোগ দেব না।'
ট্রাম্পের দাবি, 'আদালতের রায় কার্যকর হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যাবে।'
কিন্তু আদালতের রায় নিয়ে কী ভাবছেন তিনি? ট্রাম্পের আশ্বাস, শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালতে গেলেই এই মামলার নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। সেখানে নাকি তিনিই সঠিক প্রমাণিত হবেন।
শেষ পর্যন্ত তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীই সঠিক হয় কিনা, এখন সেটাই দেখার।